সংবাদদাতা,দুর্গাপুর: রান্নার গ্যাস,পেট্রোলের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দাম বিগত কয়েক মাসের মধ্যে দ্রুত হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ রীতিমতো সমস্যায় পড়তে শুরু করেছেন। সম্প্রতি চিনির দামও হঠাৎ অনেকটা বেড়ে গেছে । এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সঞ্চার হয়েছে। কেন চিনির দামও এভাবে বেড়ে গেল তার কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় নি। অবশেষে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বাজার গুলিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার একই পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল দুর্গাপুর সহ অন্যান্য বাজার গুলিতে এই অভিযান চলে।

দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ও মজুত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযান চালায় দুর্গাপুর পুরসভা, এগ্রিকালচার মার্কেটিং দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসন। একাধিক দোকান ও গোডাউনে অভিযান চলে। চিনি, আটা-সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি দোকান ও গোডাউনে পণ্য মজুতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। যৌথ এই অভিযানে ছিলেন ডিসিপি ইস্ট রাসপ্রীত সিং, এসিপি সুবীর রায়, ডিএমসি কমিশনার আবুল কালাম আজাদ-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। একই সঙ্গে আসানসোলেও এই প্রশাসনিক অভিযান হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক এস. পুন্নমবলম একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছেন। জেলা শাসক নিজেই আধিকারিকদের নিয়ে আসানসোল বাজার পরিদর্শন করেন। তিনি জানিয়েছেন, কয়েকটি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলায় মোট চারটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। কর্পোরেশন এলাকার জন্য দুটি টাস্ক ফোর্স এবং কর্পোরেশন এলাকার বাইরে এসডিও-র নেতৃত্বে পৃথক দল গঠন করা হয়েছে। পাইকারি থেকে খুচরো—সব স্তরেই নজরদারি চালানো হবে। বাজারে পরিদর্শনের সময় ডি.সি. সেন্ট্রাল, এডিএম, আসানসোল পুর নিগমের কমিশনার-সহ কৃষি, কৃষি বিপণন, ক্রেতা সুরক্ষা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা শাসক জানিয়েছেন, সরকার বাজার পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজর রাখছে। কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। চিনি, চাল ও পেঁয়াজের দামের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। জেলার সব বাজারেই এই অভিযান চালানো হবে।
