সংবাদদাতা,আসানসোলঃ বাংলার সেরা উৎসব দুর্গাপুজো শেষ হয়ে গেলেও এখনও তার রেশ থেকে গিয়েছে। এই আবহেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন বিভাগে সেরা পুজোগুলির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘দেবী দুর্গা সম্মান-২০২৬’ প্রদান করা হল। আসানসোলে জেলা শাসক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী পুজো কমিটিগুলির হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। পুরষ্কার হিসেবে স্মারকের পাশাপাশি ছিলো টাকার চেকও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার,পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল,অরিজিৎ রায় সহ জেলার পাঁচ বিধায়ক,জেলা শাসক এস পোন্নাবলম সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। মোট চারটি বিভাগে জেলার ১২টি পুজো কমিটিকে এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। ‘সেরা পুজো’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠ সর্বজনীন, আসানসোলের রাধানগর রোড অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং দুর্গাপুরের মার্কণী দক্ষিণপল্লি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।

‘সেরা প্রতিমা’ বিভাগে সম্মানিত হয়েছে দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ পুজো কমিটি,দুর্গাপুরের ফুলঝোড় সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের গান্ধীনগর দুর্গাপুজো কমিটি। অন্যদিকে,‘সেরা মণ্ডপ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে দুর্গাপুরের অগ্রণী সংস্কৃতি পরিষদ,দুর্গাপুরের শংকরপুর সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং আসানসোলের রবীন্দ্রনগর উন্নয়ন সমিতি। এর পাশাপাশি ‘সেরা সমাজ সচেতনতা’ বিভাগে সম্মানিত হয়েছে আসানসোলের রামবাঁধ সার্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটি, ধেমোমেন দুর্গাপুজো কমিটি এবং খোট্টাডিহি সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। দুই মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার ও অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়। এটি বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। সারা বছর মানুষ এই বিশেষ সময়টির জন্য অপেক্ষা করেন। তাই পুজোর প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান যথাযথ বিধি মেনে সম্পন্ন করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ বছর পশ্চিম বর্ধমান জেলায় প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পুজোর আয়োজন এবং বিসর্জন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন নজির তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিসর্জনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। এই সাফল্যের পেছনে পুলিশ প্রশাসন,জেলা শাসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
