বৃক্ষই তাঁদের আরাধ্য দেবী, সবুজের সাধনায় অনন্য দৃষ্টান্ত দুর্গাপুরের দম্পতির

সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : এই সময়ে যখন নগরায়ণের আগ্রাসনে ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে সবুজের পরিসর, তখন প্রকৃতিকে আপনজনের মর্যাদা দিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুর্গাপুরের বিধাননগরের বাসিন্দা কার্তিক ভট্টাচার্য ও সোনালী ভট্টাচার্য। বৃক্ষের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের অদম্য সংকল্প থেকেই ২০১৯ সালের ৮ই এপ্রিল তাঁদের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবুজ সংসার’।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি দুর্গাপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ক্রমশ এই উদ্যোগ একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নেয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে দুস্থ ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত হয় ‘কল্পতরু ট্রাস্ট’। শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, বস্ত্রদান, রক্তদাতার ব্যবস্থা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ডে আজও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে সংগঠনটি।


রবিবার ইন্দো-আমেরিকান মোড় সংলগ্ন এলাকায় সবুজ সংসারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয় এক অভিনব অনুষ্ঠান। একটি বৃক্ষকে শাড়ি ও পুষ্পমালায় সজ্জিত করে মাতৃরূপে আরাধনা করা হয়। এরপর কেক কেটে উদ্‌যাপন করা হয় সংগঠনের জন্মদিন। অনুষ্ঠানে সদস্যদের হাতে ৫০০-রও বেশি চারাগাছ তুলে দেওয়া হয় এবং সেগুলির রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোনালী ভট্টাচার্য জানান, কোনও সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়াই সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানে এই কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। বর্তমানে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি।সবুজ সংসারে সদস্য কার্তিক ভট্টাচার্যের কথায়, “আমরা বৃক্ষকে শুধু পরিবেশের অংশ হিসেবে দেখি না, প্রকৃতি মাতার প্রতীক হিসেবেও শ্রদ্ধা করি। তাই বৃক্ষপূজার মাধ্যমে মানুষকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিতে চাই।”বৃক্ষের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ববোধ, সমাজকল্যাণে অবিচল অঙ্গীকার এবং পরিবেশ রক্ষায় নিরলস প্রয়াস এই ত্রিবেণী সঙ্গমেই ‘সবুজ সংসার’ আজ এক ব্যতিক্রমী সামাজিক চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *