সংবাদদাতা, দুর্গাপুর :পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য। ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং অবৈধ বালি ও কয়লা পাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি গৌতম ঘোষকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে লাউদোহার ফরিদপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে দেখা যায় উপস্থিত একাংশ মানুষকে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌতম ঘোষ দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গোগলা অঞ্চলের তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি। এলাকায় তিনি শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করে একপ্রকার ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা এবং অবৈধ বালি ও কয়লা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় অবৈধ বালি ও কয়লার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন হতো এবং সেই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন গৌতম ঘোষ। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়া একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।এদিন আদালত চত্বরে ধৃত তৃণমূল নেতাকে আনা হলে উপস্থিত একাংশ মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরেও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।গৌতম ঘোষের গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাসকদলের ছত্রছায়ায় এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চলছিল। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে ফরিদপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
