সংবাদদাতা , দুর্গাপুর: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো, কার্যকারিতা এবং মানুষের আস্থাহীনতা এই তিন প্রশ্নকে সামনে রেখেই দুর্গাপুর থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার মুচিপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা আজ চরম সঙ্কটে, আর সেই সঙ্কটের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ভিন রাজ্যে চিকিৎসার জন্য মানুষের হুড়োহুড়িতে।তিনি জানান, “দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার জন্য ট্রেনের টিকিট পেতে সাধারণ মানুষকে যে লড়াই করতে হয়, তা প্রমাণ করে মানুষ রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা হারাচ্ছেন।”

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠলেও, সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, প্রযুক্তি ও ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা না থাকায় কার্যত ‘রেফার কেন্দ্র’-এ পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। সূর্যাস্তের পর এক্স-রে বা জরুরি পরিষেবা না পাওয়া এই বাস্তব চিত্রকেই তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুরতার প্রতীক বলে তুলে ধরেন।স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কলকাতা-কেন্দ্রিক না রেখে বিকেন্দ্রীকরণের জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চল বিশেষত উত্তরবঙ্গ আজও উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। কলকাতার কাছে একটি এমস (aiims ) থাকলেও উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য রায়গঞ্জের মতো এলাকায় আরেকটি AIIMS গড়ে তোলা জরুরি।”প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “উত্তরবঙ্গের রোগীদের আজও শিলিগুড়ি বা কলকাতায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসতে হয়, যা অর্থনৈতিক ও শারীরিক দু’দিক থেকেই কষ্টসাধ্য।”পাশাপাশি রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর না হওয়া নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তাঁর দাবি, ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা বিপদের সময়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড রাজ্যের বাইরে কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।এদিন যে বেসরকারি হাসপাতাল প্রকল্পের ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়, সেটি মোট সাড়ে ৬০০ বেডের পরিকল্পনায় গড়ে উঠবে বলে উদ্যোক্তা হিরন্ময় দাস জানান। প্রথম পর্যায়ে ২০০ বেডের হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই, সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।তবে বেসরকারি উদ্যোগের প্রশংসা করলেও শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনে অন্তত ১০ শতাংশ বেড দুঃস্থ ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিলিং ব্যবস্থার উপর জোর দেন তিনি।চিকিৎসা পেতে মানুষকে যদি শত শত কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, সামাজিক অবিচারেরও নামান্তর।
