সংবাদদাতা, দুর্গাপুর : জমির পাট্টা প্রদানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হল দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের মহানন্দা কলোনি এলাকায়। শনিবার রাতে এক অভিনব প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল এলাকা। ডিম নিক্ষেপ নয়, বরং স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে ডিমের ওমলেট খাইয়ে তাঁর কাছেই পাট্টার নামে সংগৃহীত অর্থের হিসাব চাইলেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে মহানন্দা কলোনি, বীরভানপুর-সহ সংলগ্ন এলাকার বহু বাসিন্দার কাছ থেকে সরকারি জমির পাট্টা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগের তির মূলত দুর্গাপুর নগর নিগমের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা শিপুল সাহা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, অর্থ নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত পাট্টা মেলেনি, এমনকি ফেরতও দেওয়া হয়নি জমা টাকা।

শনিবার রাতে মহানন্দা কলোনির এক শিক্ষকের বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি পাট্টার আবেদনপত্র উদ্ধার হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ওই নথিপত্র সেখানে গোপনে রেখে যাওয়া হয়েছিল। এরপরই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা আবেদনপত্র হাতে নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন।
ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয় শিপুল সাহার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুকুমার চক্রবর্তীকে। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে পাট্টা প্রকল্পে সংগৃহীত অর্থের হদিস জানতে চান। প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তাঁকে ডিমের ওমলেট খাওয়ানো হয়। যদিও সুকুমার চক্রবর্তী দাবি করেন, পাট্টা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য শিপুল সাহাই জানেন এবং এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত ও অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব সতর্ক করে জানিয়েছে, সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটা হবে। এদিকে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশ বিদায়ী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
