ঐক্য ও ফিটনেসের বার্তা নিয়ে সফল অভিষেক দুর্গাপুর আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের

সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : – ক্রীড়া নগরী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করল দুর্গাপুর। দুর্গাপুর ক্লাব সমন্বয়ের উদ্যোগে এবং লালবাবা রাইস দুর্গাপুর স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রবিবার অনুষ্ঠিত হল প্রথম দুর্গাপুর আন্তর্জাতিক ম্যারাথন ২০২৬ , ‘রান ফর ইউনিটি’। এই ঐতিহাসিক দৌড়ে অংশ নেন তিন হাজারেরও বেশি দৌড়বিদ।২১ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার, ৫ কিলোমিটার ও ২ কিলোমিটার, চারটি বিভাগে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। বিপুল সাড়া শহরের ক্রমবর্ধমান ক্রীড়া চেতনা ও বড় মাপের ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতাকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।


হাফ ম্যারাথনের মহিলা বিভাগে রেনু সিং এবং পুরুষ বিভাগে পঞ্চানন বেরা চ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করেন। ১০ কিলোমিটার দৌড়ে মহিলা বিভাগে পূজা ভার্মা ও পুরুষ বিভাগে শুভম বালিয়ান প্রথম স্থান অধিকার করেন। প্রতিযোগিতামূলক বিভাগগুলিতে মোট পাঁচ লক্ষ টাকার পুরস্কারমূল্য রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি সকল নিবন্ধিত দৌড়বিদ পান অফিসিয়াল টি-শার্ট, ফিনিশার মেডেল ও ডিজিটাল সার্টিফিকেট।
এই ম্যারাথনের পাশাপাশি স্পোর্টস কার্নিভালের অংশ হিসেবে ব্যাটমিন্টন, বাস্কেটবল, খো-খো, টেবিল টেনিস, ফুটবল ও ক্রিকেট সহ একাধিক ইনডোর ও আউটডোর ক্রীড়া ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। গোটা উদ্যোগটি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সমর্থন পায়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক দুর্গাপুর সুমন বিশ্বাস, দুর্গাপুর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখার্জি, বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার হোসে ব্যারেটো, এশিয়ান গেমস পদকজয়ী সোমা বিশ্বাস ও হিমাশ্রী রায় সহ ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন রায় চৌধুরী, লালবাবা রাইসের পরিচালক পার্থ সারথি নন্দী, দুর্গাপুর ক্লাব সমন্বয়ের সভাপতি সন্দীপ দে ও রেস ডিরেক্টর প্রশান্ত সাহা।

অনুষ্ঠান শেষে সন্দীপ দে বলেন, “দুর্গাপুর যে একটি বড় ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত, এই ম্যারাথনের সাফল্য তারই প্রমাণ।” অন্যদিকে পার্থ সারথি নন্দী জানান, “ফিটনেস ও ঐক্যের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগে লালবাবা রাইস যুক্ত হয়েছে।”সফল অভিষেকের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুর আন্তর্জাতিক ম্যারাথন ভবিষ্যতে একটি বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করল, যা দুর্গাপুরকে জাতীয় ক্রীড়া মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *