সংবাদদাতা, দুর্গাপুর : একসময় এলাকার পরিচিত গৃহশিক্ষক। পরবর্তীকালে রাজনীতির ময়দানে দ্রুত উত্থান। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভের পাশাপাশি দুর্গাপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং ২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদও অলঙ্কৃত করেছিলেন রমাপ্রসাদ হালদার। তবে ক্ষমতার সেই উজ্জ্বল অধ্যায় এখন যেন আইনের কাঠগড়ায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাস, দখলদারি এবং তোলাবাজির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলায় মঙ্গলবার বুদবুদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রমাপ্রসাদ হালদারকে। বুধবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয় আদালতের কাছে।
এদিন আদালত চত্বরে রমাপ্রসাদ হালদারকে আনা মাত্রই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত একাংশ স্থানীয় বাসিন্দা ‘চোর-চোর’ স্লোগানে সরব হয়ে ওঠেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ যেন বারবার প্রকাশ্যে এসে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রলয় নন্দী অভিযোগ করে বলেন, “এক সময় রমাপ্রসাদবাবু টিউশনি পড়াতেন। এরপর হঠাৎ করেই বেনাচিতি-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আবাসন ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে ওঠেন। এত বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর নামে ও বেনামে থাকা সমস্ত সম্পত্তির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”এদিন অভিযুক্তকে আদালতে আনার সময় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীরও মোতায়েন করা হয়। কার্যত বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় রমাপ্রসাদ হালদারকে।
এই প্রসঙ্গেই প্রলয় নন্দীর কটাক্ষ করে বলেন, “এভাবে কোনও সাধারণ আসামিকে পুলিশি সুরক্ষা দিতে কখনও দেখিনি। একজন অভিযুক্তকে ঘিরে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। পুলিশ যেন একজন আসামিকেই রক্ষা করতে ব্যস্ত।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
