দুয়ারে বিধায়ক, প্রশ্নে জনতা, উন্নয়নের খতিয়ান নাকি প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাগজ বিলি

সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : শনিবার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদপুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে দেখা গেল দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইকে। কাগজে ছাপা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উন্নয়নের ফিরিস্তি শোনাতে তিনি পৌঁছে যান ফরিদপুরের একের পর এক বাড়িতে।স্বাভাবিক ভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি, প্রার্থী তালিকাও এখনও প্রকাশিত নয়। তবু এই হঠাৎ জনসংযোগের ঢেউ কেন? পাঁচ বছরের রাজনৈতিক উপস্থিতি যদি এতই দৃশ্যমান হতো, তবে কি আজ আলাদা করে বাড়ি বাড়ি ‘মনে করিয়ে’ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত? উন্নয়ন যদি চোখে পড়ে, তবে তাকে কাগজে প্রমাণ করতে হয় কেন?

বিজেপি বিধায়কের এদিনের কার্যকলাপে শুরু হয়েছে জোড় রাজনৈতিক তরজা। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শাসক দল, রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান,রাজনীতির অঙ্কে সময়টাই আসল সূত্র। দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎ সক্রিয়তা কি নিছক সৌজন্য? নাকি জনমত যাচাইয়ের আগাম মহড়া? যে যোগাযোগ পাঁচ বছরে নিয়মিত ছিল না, তা ভোটের আগে এত আন্তরিক হয়ে ওঠে কীভাবে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ফরিদপুর বাসীদের মধ্যে।উন্নয়নের ভাষণ শোনা সহজ, কিন্তু তার বাস্তব প্রতিফলন খুঁজে পাওয়াই কঠিন। প্রকল্পের নাম উচ্চারণে জোর যত, বাস্তবায়নের ছবি কি ততটাই উজ্জ্বল? বিজেপি বিধায়কের মানুষের দরজায় কড়া নাড়া অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু সেই কড়া যদি কেবল নির্বাচনী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়ে, তবে মানুষের মনে সন্দেহ জাগাই স্বাভাবিক। উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় মুখপাত্র জেলা তৃণমূল জানান ফরিদপুরে এখন প্রশ্নটাই মূল চরিত্র। এই তৎপরতা কি দেরিতে জাগা দায়বদ্ধতা, না ভোটের আগাম প্রস্তুতি? শেষ কথা বলবে জনতা, কারণ রাজনৈতিক স্মৃতি মাঝে মাঝে প্রচারের কাগজের চেয়েও বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *