দুর্গাপুর : একদিকে লাল পতাকা নিয়ে আওয়াজ উঠছে ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ’। অন্যদিকে ঢাকের সঙ্গে একের পর এক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। মুখোমুখি দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে শুক্রবার টান টান উত্তেজনা দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুই পক্ষের মাঝে টানটান উত্তেজনার আবহে শেষ পর্যন্ত দড়ির ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে প্রশাসন। সিটি সেন্টারে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের সামনে এদিন ছিল সিপিএমের সমাবেশ। সেই সমাবেশকে ঘিরেই জমায়েত করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা।

সিপিএম র মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম শতরূপ ঘোষ ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তখনই সমাবেশের অপর প্রান্তে পাল্টা দেখা যায় বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনী। সেখানে ঢাক বাজানোর পাশাপাশি ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যেই চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। কিন্তু স্লোগানের তীব্রতা বাড়তেই দুই পক্ষের মাঝে দড়ির ব্যারিকেড তৈরি করে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। সিটি সেন্টার চত্বরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকাজুড়ে তৈরি হয় চাপা উত্তেজনার পরিবেশ। এদিন সিপিএমের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা শতরূপ ঘোষ এবং মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সমাবেশের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শতরূপ ঘোষ।

শতরূপ ঘোষ বলেন, ভোটের আগে বিজেপির তরফে বাংলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ভোট মিটতেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর কথায়, ভোটের আগে বিজেপি বললো সন্ত্রাস মুক্ত বাংলা গড়ে উঠবে। তারা বলেছিল সকলের পাশে থাকবে, পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু ভোটে জেতার পরেই দেখা যাচ্ছে সিপিএমের সভার সামনে ঢাক বাজাচ্ছে ওঁরা।অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু রক্ষা বাহিনীর নেত্রী শুভ্রা প্রসাদ সাহা বাবু-র অভিযোগ, হিন্দু সংস্কৃতিকে আঘাত করা হচ্ছে। সেই প্রতিবাদেই তাঁদের এই কর্মসূচি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু সংস্কৃতিতে আঘাত করছে। নানা রকম ভাবে বদনাম ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ।
