সংবাদদাতা , দুর্গাপুর: রাস্তা আছে, কিন্তু রাস্তার চিহ্ন কোথায়? পিচের রাস্তা কার্যত পরিণত হয়েছে জলমগ্ন ডোবায়। সেই জমা জলে মাছ ছেড়ে বিক্ষোভ সিপিএমের।কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার বড় বড় গর্ত। সেই জল-কাদার মধ্যেই প্রতিদিন চলছে ছোট-বড় গাড়ি। রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে কার্যত প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাদ যাচ্ছে না স্কুল পড়ুয়ারাও। এমনই অভিযোগ তুলে দুর্গাপুর নগর নিগমের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেসরকারি ক্যান্সার হাসপাতালের সামনের বেহাল রাস্তা নিয়ে সরব হল সিপিএম। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার উপর জমে যাচ্ছে জল। তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত।

সেই গর্তে জল জমে রাস্তা আর ডোবার মধ্যে পার্থক্য করা কার্যত দুষ্কর হয়ে পড়ছে। তার মধ্যেই প্রতিদিন চলছে যানবাহন। ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। শুধু গাড়িচালক বা পথচারী নয়, এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় স্কুল পড়ুয়াদেরও। জল-কাদা পেরিয়েই তাঁদের স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। রাস্তার বেহাল দশার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি সিপিএমের। এমনকী জল-কাদায় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। আর এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই এবার অভিনব পথে বিক্ষোভ দেখাল সিপিএম। রাস্তার জমা জলে মাছ ছেড়ে দেওয়া হয়। কার্যত রাস্তা না ডোবা এই বার্তাই তুলে ধরতে অভিনব এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বলে দাবি বামেদের। সিপিএমের অভিযোগ, দুর্গাপুরের নাগরিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে দুর্গাপুর নগর নিগমে আর নির্বাচন হয়নি। ফলে বর্তমানে শহরের সমস্ত ওয়ার্ডই কাউন্সিলরশূন্য। আর তার জেরেই নাগরিক পরিষেবায় নজরদারির অভাব দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ সিপিএমের।

২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কনভেনার নয়ন রঞ্জন ঘোষ বলেন, “দুর্গাপুরে নাগরিক পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। কোনও হুঁশ নেই প্রশাসনের। নতুন সরকার আসার পরেও কোনও নজর দেয়নি। দুর্ঘটনা ঘটছে মাঝেমধ্যে। কখনও আবার বিকল হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।” পাল্টা কটাক্ষ করে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিপিএমকে নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। কারণ ওরা শূন্য থেকে মহাশূন্যে চলে গেছে। ওরা ধর্মবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলে। যেইখানে যখন টাইট দেওয়া প্রয়োজন হবে, আমরা টাইট দিয়ে দেব।”
