সংবাদদাতা দুর্গাপুর : শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্গাপুর শ্যামপুরের বাসিন্দা রজত দাসের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন হাওড়ার বাসিন্দা সুমন ঘোষ ওরফে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ যিনি একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী।অভিযোগ, ২০১৭ সালে সামাজিক মাধ্যমে দু’জনের পরিচয় হয়। প্রথম দিন থেকেই রজত জানতেন প্রিয়াঙ্কার পরিচয়। তবুও গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, জন্ম নেয় ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি। এখন প্রশ্ন, পরিচয় জেনেও যদি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তবে কি সেই সম্পর্কের ভিত ছিল বিশ্বাসে, না কি হিসেবি প্রয়োজনে?

প্রিয়াঙ্কার দাবি, ব্যবসা শুরু করার নাম করে এবং বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে রজত তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিশ্বাসের টানে তিনি কোনও সন্দেহ পোষণ করেননি।কিন্তু ২০২২ সালে প্রাপ্য অর্থ ফেরতের দাবি উঠতেই নাকি সম্পর্কে চিড় ধরে। শুরু হয় অশান্তি। এখানেই ওঠে প্রশ্ন , টাকার হিসেব চাওয়াই কি অপরাধ? না কি সমাজের প্রান্তিক এক মানুষের দাবি এত সহজেই অস্বীকার করা যায়?

শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ দায়ের করেন দুর্গাপুর কোক ওভেন থানায়,
পুলিশ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত্রে অভিযুক্ত রজত দাসকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে চার দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।এই ঘটনায় আরও একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে ট্রান্সজেন্ডার সমাজ কি এখনও সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমান মর্যাদা ও সুরক্ষা পায়? তাঁদের বিশ্বাস ভেঙে গেলে, তাঁদের আর্তি কি সমান গুরুত্ব পায়? নাকি পরিচয়ের কারণেই অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার প্রবণতা থেকে যায় সমাজে?প্রেম যদি সমতার কথা বলে, তবে প্রতারণা কেন প্রান্তিকের কাঁধেই বেশি ভর করে? একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী যখন সাহস করে থানার দ্বারস্থ হন, তখন তা কেবল আর্থিক ন্যায়ের দাবি নয়, তা সম্মান ও স্বীকৃতির লড়াইও বটে।এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করবে তদন্ত। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও মানুষকে দুর্বল ভেবে ব্যবহার করা হলে তা শুধু আইন ভঙ্গ নয়, মানবিকতারও অবমাননা।
