ডিজিটাল যুগে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলে দিল দুর্গাপুর গ্রন্থাগার ,

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর : অবশেষে দুর্গাপুরবাসীদের জন্য সুখবর! আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠকদের আরও সুবিধা দিতে দুর্গাপুর সিটি সেন্ট্রাল গ্রন্থাগারে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল ই-লাইব্রেরি পরিষেবা। শহরের পাঠক পাঠিকা, ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের জন্য এটি এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই গ্রন্থাগারটি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার প্রবেশ করলো ডিজিট্যাল যুগে। নতুন ই-লাইব্রেরি কক্ষে অত্যাধুনিক কম্পিউটার, দ্রুত গতির ইন্টারনেট এবং উপযুক্ত ডিজিট্যাল পরিকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঠক-পাঠিকারা সহজেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ই-বুক, গবেষণাপত্র এবং অনলাইন ডেটাবেস অ্যাক্সেস করার সুযোগ করতে পারবেন। বিশেষত শিশু দিবসের কথা মাথায় রেখেই বর্তমান যুগে শিশুদেরকে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করতেই একটি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকের আর্থানুকূল্যে গড়ে উঠেছে কিডস্ জোন, যেখানে থাকছে শিশুদের জন্য বই ও বিভিন্ন গেমসের সম্ভার। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এই পরিষেবাটি বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার গবেষণার কাজ , সব ক্ষেত্রেই ই-লাইব্রেরি বিপুল সংখ্যক তথ্য ও জ্ঞানের উৎস সরবরাহ করবে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ হালদার , প্রাক্তন পৌর মাতা তথা দুর্গাপুর সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর যুগ্ম সম্পাদক অঙ্কিতা চৌধুরী সহ বিশিষ্টজনেরা। দুর্গাপুর সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর যুগ্ম সম্পাদক অঙ্কিতা চৌধুরী জানান, “একটি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকের ছয় লক্ষ টাকা আর্থানুকূল্যে এই ই- লাইব্রেরি উদ্বোধন করা হল। আপাতত মোট ছ’টা কম্পিউটার রয়েছে। বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে সদস্য সংখ্যা ১৮০০ জন। ধীরে ধীরে চাহিদানুযায়ী কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়ানো হবে। মূলত শিশু দিবসের কথা মাথায় রেখে কিডস জোন উদ্বোধন করা হয়েছে।” পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, “বর্তমান যুগের প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে একটি ই-লাইব্রেরির বিশেষ প্রয়োজন যাতে স্বল্প পরিসরে বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের সুযোগ পাওয়া যায়। এই পরিষেবার ফলে পাঠক পাঠিকারা খুবই উপকৃত হবেন এবং আরোও বেশি সংখ্যক মানুষ গ্রন্থাগারের প্রতি মনোনিবেশ করবেন বলেই আশা করা যায়।”


দুর্গাপুরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারের এই ডিজিট্যাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি শহরের পাঠাভ্যাস, গবেষণা এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি। কিডস জোনের মতো উদ্যোগ ভবিষ্যত প্রজন্মকে বইয়ের জগতে যুক্ত করার দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। সরকারি সহায়তা, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *