সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই দুর্গাপুরের ১৬ নং ওয়ার্ডে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। নির্বাচন এগিয়ে আসতেই শিল্পনগরী দুর্গাপুরে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। শনিবার দুর্গাপুরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঝান্ডাবাগের বাগদিপাড়া থেকে প্রায় ও আড়াইশো জন মহিলা পুরুষ মিলিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুইয়ের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ। তাঁর বক্তব্য,“এলাকায় জল নেই, বাসস্থান নেই, রুজি-রোজগারের নিশ্চয়তা নেই। তাই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে।”

অন্যদিকে ধান্ডাবাগের বাগদিপাড়া এলাকায় বিজেপি যে ‘যোগদান মেলা’র দাবিকে ‘ভোটের আগে সাজানো নাটক’ বলে সপাটে উড়িয়ে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শাসক শিবিরের। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, যারা আজ গেরুয়া ঝাণ্ডা ধরছেন, তারা কোনোদিনই তৃণমূলের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না। এককালে কট্টর সিপিএম করা এই সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠীটিই এখন বিজেপির ছত্রছায়ায় নাম লিখিয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী।“সরকারের সুবিধা নেবেন, আর মঞ্চে উঠে তৃণমূল বিরোধী স্লোগান দেবেন, এই দ্বিচারিতা মানুষ দেখছে,” তৃণমূলের বক্তব্যে স্পষ্ট ক্ষোভ।রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর আগে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়বেই। ২০২১-এ এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, আর এবারও দুই শিবিরই মাটি শক্ত করতে মরিয়া। বিজেপি যেখানে ‘দলবদল’কে জনসমর্থনের ঢেউ হিসেবে দেখাতে চাইছে, তৃণমূল সেখানে এটিকে ‘ভোটের আগে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কৌশল’ বলেই চিহ্নিত করছে।ধান্ডাবাগের এই দলবদল আদৌ ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, নাকি তা শুধুই নির্বাচনী আবহে প্রচারের ঝড়, তার উত্তর মিলবে ২০২৬-এই। তবে আপাতত শিল্পনগরীর রাজনীতিতে আগুনে ঘি পড়েছে, তা বলাই যায়।
