গরম জল-ডাণ্ডা’ মন্তব্যে চড়ছে পারদ, সংযত জবাবে তৃণমূল প্রার্থী

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর : একদিকে চৈত্রের তপ্ত রোদ, অন্যদিকে বিধানসভা ভোটের রাজনীতির উত্তাপ— সব মিলিয়ে দুর্গাপুর এখন আক্ষরিক অর্থেই তপ্ত। বুধবার দুর্গাপুর ট্যাং রোডের বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুইয়ের সমর্থনে প্রচারে এসে তৃণমূলকে নিশানা করে তীব্র ও বিতর্কিত ভাষায় আক্রমণ শানালেন বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তৃণমূলকে ‘চোরের দল’ আখ্যা দিয়ে সৌমিত্র খাঁ ভোটারদের উদ্দেশে এক বিতর্কিত ও কড়া দাওয়াইয়ের কথা বলেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের চোর তাড়াতে এবার গরম জল আর ডাণ্ডা তৈরি রাখুন। তবে মনে রাখবেন, আপনাদের হাতের আঙুলই হলো আসল ডাণ্ডা। ভোটের দিন ইভিএমে ওই আঙুলের ব্যবহার করেই চোরদের যোগ্য জবাব দিন।” দুর্গাপুরকে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, কর্মসংস্থান না থাকায় শিক্ষিত যুবসমাজ আজ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ কারখানা খোলা ও দুর্গাপুরকে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এতেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি। প্রতিপক্ষ তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্তকে আক্রমণ করে তাঁকে ‘মুখে মিষ্টি ডাকাত’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হিসেবে দেগে দেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িত ব্যবসায়ীকে ভোট দেবেন না। ভোট জিতলে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করবে। সাধারণ মানুষের কথা ভাববে না।”তবে তাঁর ভাষণের তীব্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল। পাল্টা জবাবে তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত সংযত সুরে বলেন, “রুচি ও শিক্ষা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এত ব্যক্তিগত আক্রমণই প্রমাণ আমি সঠিক পথে আছি।” শালীনতা বজায় রেখেই মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।
ভোটের আগে যেখানে উন্নয়ন ও ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি প্রত্যাশিত, সেখানে এই ধরনের উত্তেজক মন্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়কেই সামনে আনছে এমনটাই মত একাংশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *