দুর্গাপুর: দুপুরে খাবার দেওয়ার পর থেকে বন্ধ ছিল ঘরের দরজা। বারবার ফোন করেও মেলেনি সাড়া। শেষ পর্যন্ত রাতে পুলিশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। সেচ দপ্তরের রেস্টরুমের ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল এক আধিকারিকের দেহ। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে।মৃত আধিকারিকের নাম অলোক দাস (৫২)। তাঁর বাড়ি নদিয়ার কল্যাণীতে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে অফিসের রেস্টরুমে ছিলেন তিনি। তাঁকে খাবার দেওয়ার পর থেকেই ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান কর্মীরা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় এবং যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

রাতের দিকে দপ্তরের নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিকবার ফোন করেও তাঁর কোনও সাড়া পাননি বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানানো হয়। খবর দেওয়া হয় কোকওভেন থানায়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় অলোক দাসের ঝুলন্ত দেহ। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।দপ্তরের নিরাপত্তারক্ষী অরুণ যাদব জানান, দুপুরে খাবার দেওয়ার পর থেকে অলোকবাবুর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাতে একাধিকবার ফোন করেও উত্তর মেলেনি। পরে রেস্টরুমে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয়।

কী কারণে এই মৃত্যু, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কর্মক্ষেত্রের কোনও সমস্যা, ব্যক্তিগত কারণ নাকি অন্য কোনও বিষয়—কোনও সম্ভাবনাকেই আগাম নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রয়েছে।
