নোটবন্দির কালা অধ্যায়।নয় বছর পরও ক্ষোভ অম্লান কংগ্রেসের

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: স্মৃতির পাতায় ফিরে এলো দেশের এক কালো অধ্যায় নোটবন্দি। ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর, রাত ৮.টা ১৫ মিনিট । হঠাৎ টেলিভিশনের পর্দায় এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন, ১৬ই নভেম্বর থেকেই বাতিল হচ্ছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশ। ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে সাধারণ মানুষ, বন্ধ ব্যবসা, থমকে যাওয়া অর্থনীতি, সব মিলিয়ে এক অভিশপ্ত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল সেদিন।


ন’বছর পর, সেই স্মৃতিই আবার উসকে দিল পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস। শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে, নোটবন্দির ঘোষণার ঠিক সময়টিতেই, বেনাচিতি স্টিল মার্কেট কংগ্রেস কার্যালয়ে পালন করা হয় “কালা দিবস”। উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক পামলু মজুমদার, পিসিসি সদস্য উত্তম রায়, ব্লক সভাপতি রবীন গাঙ্গুলী, সৌমেন বাউরি সহ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বরা।এদিন নোটবন্দির বিভীষিকায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে ধিক্কার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।সভা শেষে জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন,”২০১৬ সালের ঠিক আজকের দিনেই ভারতের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোটবন্দি ঘোষণা করেন। তারপরেই বিভীষিকা ঘনিয়ে আসে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে, যার ফলস্বরূপ অনেক নিরীহ মানুষকেই মৃত্যুবরণ করতে হয়। তাই আজ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে তাঁদের স্বরণ করা হয়। একইসাথে সেই কালা দিবসের প্রতিবাদে আজ প্রধানমন্ত্রীর কুশ পুত্তলিকা দাহ করা হয়।”ন’বছর পেরিয়ে গেলেও নোটবন্দির কালো ছায়া আজও দেশের অর্থনীতির ওপর ভর করে আছে। ব্যাংকের সামনে লাইন আর চোখের জল মুছে গেলেও, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আজও দগদগে। বেনাচিতিতে কংগ্রেসের কালা দিবস যেন মনে করিয়ে দিল, সেই ভুল সিদ্ধান্তের দায় ইতিহাস একদিন নিশ্চয়ই নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *