দিল্লি বিস্ফোরণের জেরে সতর্ক দুর্গাপুর-পানাগড়, শুরু কড়া নাকা চেকিং

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, : রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে সতর্কতা জারি হয়েছে গোটা দেশে। নাশকতার আশঙ্কায় পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও কড়া নজরদারি শুরু করেছে পুলিস। দুর্গাপুর থেকে পানাগড় পর্যন্ত সমস্ত সংযোগ সড়কেই চলছে তল্লাশি অভিযান। বিশেষত সেনা-ঘাঁটির নিরাপত্তা ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে বহুগুণে।সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের সামনে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এই নিশংস ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বিস্ফোরণের পর দিল্লি জুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট, পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দুর্গাপুর ও পানাগড় এলাকা সেনা ও বায়ুসেনার দিক থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তাই সোমবার রাত থেকেই আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের নির্দেশে শুরু হয়েছে কড়া নাকা চেকিং। জেলা সীমান্তবর্তী সড়ক, দুর্গাপুর ব্যারেজ, কাঁকসার অজয় নদের ওপর নীলকন্ঠ সেতু, বসুধা সেতু, পাণ্ডবশ্বরের অজয় সেতু এছাড়াও পানাগড় সেনাঘাঁটির আশেপাশের এলাকাগুলিতে চলছে টহলদারি ও যানবাহনে তল্লাশি।


পানাগড় বায়ুসেনা ঘাঁটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলির একটি। এখানেই রয়েছে আধুনিক ‘সুপার হারকিউলেস সি-১৩০ জে’ যুদ্ধবিমান। যা মাত্র এক ঘণ্টায় চীন সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে যেতে সক্ষম। বর্তমানে ঘাঁটিতে দিনরাত চলছে যুদ্ধবিমান ওঠানামার প্রশিক্ষণ।গত কয়েক মাস ধরে ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়েও গোয়েন্দাদের নজরদারি জোরদার। গতবছর কাঁকসার মীরেপাড়া এলাকা থেকে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’-এর শীর্ষ নেতা মহম্মদ হাবিবুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক উস্কানিমূলক ভিডিও ও বার্তা।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ পায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘শাহাদাত’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে তরুণদের জঙ্গি সংগঠনে টানার চেষ্টা চলছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় উস্কানি ছড়িয়ে দেশের আইনব্যবস্থা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করা। হাবিবুল্লাহর সূত্রে এসটিএফ পরবর্তীতে আরও দুই অভিযুক্তকে হাওড়া ও চেন্নাই থেকে গ্রেপ্তার করে।
দেশের নিরাপত্তা জোরদারে সেনাঘাঁটির আশপাশে ড্রোন উড়ানোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলিকেও অচেনা বা সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি নজরে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের সময় পাহারাদার টিম বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বিস্ফোরণ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে সতর্ক করেছে। সেনা ও বায়ুসেনা ঘাঁটি-সংলগ্ন দুর্গাপুর–পানাগড়ের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাই নিরাপত্তা বাড়ানোই সময়ের দাবি। পুলিসের কড়া নজরদারি ও প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপই আপাতত আশ্বস্ত করছে সাধারণ মানুষকে। তবে সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা যে এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠল দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনাতেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *