সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: – দুর্গাপুর পুরসভার নতুন প্রশাসক মণ্ডলীর তালিকা প্রকাশ হতেই তৈরি হল বিতর্ক। সোমবার দুপুরে দুর্গাপুর নগর নিগমের সামনে বিক্ষোভে নামে বাংলা পক্ষ। কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকা বিক্ষোভ নয় এটি একেবারেই ভাষাভিত্তিক আত্মসম্মানের প্রশ্নে রাস্তায় নামেন সংগঠনের সদস্যরা।
বিক্ষোভকারীরা তীব্র সমালোচনা করেন দুর্গাপুর নগর নিগমের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান ধর্মেন্দ্র যাদবের। তাঁদের অভিযোগ, “দুর্গাপুর পুরসভা বাঙালির ভূমি। অথচ প্রশাসক মণ্ডলীতে তিন বাঙালি সদস্যরাখি তেওয়ারি, দীপঙ্কর লাহা ও অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় কে সরিয়ে এক ‘বিহারী বহিরাগত’-কে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এটা বাঙালি পরিচয়ের প্রতি অসম্মান।”
বাংলা পক্ষের আরও দাবি, ধর্মেন্দ্র যাদবের পরিবার নাকি আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁকে এই পদ দেওয়া আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন ভাইস চেয়ারম্যান ধর্মেন্দ্র যাদব নিজেই। তিনি বলেন,
“আমি গত ২৫ বছর ধরে সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত। কেউ কোনোদিন আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেনি। আমি এই রাজ্যেরই মানুষ, এখানকার সংস্কৃতিতেই বড় হয়েছি। এখন হঠাৎ বাঙালি, হিন্দি বা উর্দুভাষী ভেদাভেদ তুলে বিভাজন সৃষ্টি করা দুঃখজনক।”

পুরসভায় নতুন প্রশাসক মণ্ডলীর ঘোষণার পর থেকেই এই “বহিরাগত বনাম বাঙালি” বিতর্ক দুর্গাপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা এনেছে। বাঙালি পরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিয়ে বাংলা পক্ষের এই প্রতিবাদ শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ।
দুর্গাপুরবাসী এখন চাইছে কাজের রাজনীতি, ঘৃণার নয়। কারণ একটাই, শহর ধর্ম দেখে নয়, কর্ম দেখে চলে।
