১১৯ দিন ধরে লাগাতার সংগ্রাম বিড়লা সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর : দুর্গাপুরে কারখানা দুর্নীতি যেন পিছু ছাড়ছেনা। কখনও কারখানায় বহিরাগতদের কাজে নিযুক্তি তো কখনও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া, বাদ পড়ছেনা কিছুই। দুর্গাপুর গ্যামন কলোনির বেসরকারি সিমেন্ট কারখানায় শ্রমিকদের সংগ্রাম ১১৯ দিনে পড়লো। সম কাজে সম বেতন, ন্যায্য মজুরি, গ্রেডেশন, ডাস্ট অ্যালাউন্স, অবসরের পরে গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি দশ দফা ন্যায্য দাবি নিয়ে দুর্গাপুর বিড়লা সিমেন্ট কারখানার গেটের সামনে অক্লান্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা। ভূমিরক্ষা কমিটির নেতৃত্বে চলা এই অবস্থান বিক্ষোভ রবিবার পঞ্চম দিনে পড়লো। অভিযোগ, কারখানার ২৮ জন শ্রমিককে ২১ শে জুলাই ২০২৫ থেকে বেআইনি ও অবৈধভাবে কাজে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ১১৯ দিন ধরে তাদের বেতন ছাড়াই বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে বকেয়া বেতন-সহ কাজে পুনর্বহাল করতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও তিনবার অনশন মঞ্চ থেকে লড়াই করে শ্রমিকরা দু’দফায় মোট ৩৭ টাকা দৈনিক হাজরি বৃদ্ধি করাতে সমর্থ হয়েছিলেন, যা ১৮ বছরে প্রথম শ্রমিক-বান্ধব সিদ্ধান্ত বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ভূমিরক্ষা কমিটির সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় জানান, “শুধুমাত্র নিজেদের ন্যায্য দাবি জানানোই আজ এই শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে কাজ থেকে বসিয়ে রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি শ্রমিক সংগঠনকে জানানো হয়েছে। তবে কোর কমিটির কিছু সদস্যের মুখের ভাষা এত খারাপ, তারা শ্রমিকদের মানুষ বলে গণ্য করেনা, তারা আর কি শ্রমিকদের কথা ভাববে। তাই, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটককে অনুরোধ করব বিষয়টি দেখুন, নয়তো শ্রমিকেরা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।” এই প্রসঙ্গে সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে চোর কমিটি গড়ে উঠেছে তাদের মূল উদ্দেশ্য চুরি করা। দুর্গাপুরবাসী তা ভালো করেই জানেন। আর বিড়লা কারখানার ম্যানেজমেন্ট যেভাবে অন্যায়ভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে কাজ থেকে বসিয়ে রেখেছে, সেটা মেনে নেওয়া যায়না। শ্রমিকদের স্বার্থে আমরা ভূমি রক্ষা কমিটির এই আন্দোলনকে সমর্থন করি। এই অপদার্থ ম্যানেজমেন্টকে একমাত্র আদালতের মাধ্যমেই শায়েস্তা করা যাবে।”

অন্যদিকে দুর্গাপুর আইএনটিটিইউসি’র কোর কমিটির সদস্য মানস অধিকারী জানান, “বিড়লা সিমেন্ট কারখানা যেভাবে শ্রমিকদের কাজ থেকে বসিয়ে রেখেছে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কারখানার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি উচ্চতর নেতৃত্বকেও জানান হয়েছে। তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।” যদিও কোর কমিটির কিছু সদস্যের মুখের ভাষা খারাপ এই অভিযোগের প্রত্যুত্তরে তিনি জানান, “দেখুন কে কোন ভাষায় কথা বলছে সেটা তো বলা যায়না, তবে ভালো মন্দ এটা নিজের ব্যাপার।” একের পর এক অভিযোগে জর্জরিত শ্রমিক সংগঠনের কোর কমিটি। অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠছে খোদ শ্রমিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে থেকেই। এর পরে আবার অভিযোগ তুলেছে ভূমিরক্ষা কমিটি। এখন দেখার শ্রমিকদের এই করুন আর্তি আদেও উচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছায় নাকি মাঝ পথেই তা হারিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *