বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর : শনিবার দুর্গাপুর পলাশডিহা সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হল স্কুলের বহু প্রতীক্ষিত ‘বার্ষিক প্রদর্শনী’। বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকল্প, বিজ্ঞান মডেল, চারুকলা, হস্তশিল্প, তথ্য-প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ নানা বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি নজরকাড়া প্রদর্শনীর এক অসাধারণ মেলবন্ধন দেখা গেল এই আয়োজনে, যা দর্শক ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করেছে। প্রদর্শনী উপলক্ষে সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আবহ। এদিনের প্রদর্শনীতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, পরিবেশবান্ধব মডেল, রকেট বিজ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে একাধিক আকর্ষণীয় ওয়ার্কিং মডেল উপস্থাপন করে।

কলা বিভাগ থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা, সমাজ সচেতনতামূলক বিষয় এবং শিল্পকলার উপর ভিত্তি করে তৈরি প্রজেক্টগুলি ছিল অত্যন্ত শিক্ষামূলক এবং নান্দনিক। হস্তশিল্প ও চারুকলা বিভাগে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি, ভাস্কর্য, মাটির কাজ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম ব্যাপক প্রশংসা পায়। এছাড়াও বিভিন্ন ভাষা ও সাহিত্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি চার্ট, বুক রিপোর্ট ও নাটিকার মঞ্চায়ন দর্শকদের আনন্দ দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, দুর্গাপুর সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুলের চেয়ারম্যান সুনীল মন্ডল ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। দুর্গাপুর সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুলের চেয়ারম্যান সুনীল মন্ডল জানান, “২০১২ সাল থেকে এই স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবছরই স্কুলে জমকালো বার্ষিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এবছরেও জাঁকজমকপূর্ণভাবে বার্ষিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই উপলক্ষে সকাল থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে।” দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় জানান, “এই প্রদর্শনী অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আজকের প্রজন্ম তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র পড়াশুনা নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি হাতে-কলমে তা প্রদর্শন করে দেখানো, এসবের ফলে তাদের অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিমত্তা ও জনসংযোগকে সমৃদ্ধ করছে। এই প্রচেষ্টাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই ও স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি।” এডিডিএ’র চেয়ারম্যান কবি দত্ত জানান, “স্কুলের বার্ষিক প্রদর্শনী নিজস্ব গতিতে চলছে চলবে। উদ্যোক্তা সুনীল মন্ডলকে আজ থেকে ৪০ বছর আগে দেখেছিলাম। আজ তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যেভাবে তিনি সমাজকে আর দুর্গাপুরকে সমৃদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সেজন্য তাঁকে কুর্নিশ জানাই। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানাই।” দিনব্যাপী এই বার্ষিক প্রদর্শনী ঘিরে স্কুলে ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানের শেষে সেরা প্রদর্শনীর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
