ভোটরক্ষা শিবির পরিদর্শনে সাংসদ

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর:— দুর্গাপুর ২ নম্বর ব্লক ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধুনরা প্লট তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত হয় ভোট রক্ষা শিবির। শনিবার সেই শিবির পরিদর্শনে উপস্থিত হন বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ। সাধারণ মানুষের SIR ফর্ম পূরণ এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য দিনভর তৎপর ছিলেন ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মীরা। শিবিরে এসে সাংসদ কীর্তি আজাদ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন এসআইআর নিয়ে আতঙ্কের কিছুই নেই। প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে। বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ জানান, “এই সচেতন শিবিরের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে কোন সমস্যা হলে তৃণমূলের কর্মীরা সাহায্য করে দিচ্ছেন। এমনিতেই এসআইআর ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

যাদের ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্ম, ভিটে, বাবা মা সবাই এই দেশের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার জন্য ভয়ে রয়েছেন। তাই তাদের বোঝানো হচ্ছে তারা যাতে ভয় না পান এবং এসআইআর ফর্ম পূরণ করে জমা দেন। কারণ নাম নথিভুক্তকরণ না হলে সেই জায়গায় বিজেপি নিজের লোক ঢুকিয়ে দেবে, যেমনটা বিহারে হয়েছে। তাই মানুষকে যথার্থভাবে সাহায্য করা হচ্ছে।” এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর দু’নম্বর ব্লক সভাপতি তথা জেলা তৃণমূল মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী জেলা সভাপতি বিট্টু সান্যাল, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পৌরমাতা তথা জেলা মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী অসীমা চক্রবর্তী, ওয়ার্ড কনভেনার গৌরাঙ্গ বাগদী, দু’নম্বর ব্লক এসসি ওবিসি তৃণমূল সভাপতি অর্ণব মন্ডল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দুর্গাপুর ২ নং ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় জানান, “এসআইআর নিয়ে মানুষ ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত। একদিকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় বা ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে নাম না থাকায় মানুষ আতঙ্কে মারা যাচ্ছেন অন্যদিকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কাজের চাপে বিএলওরা মারা যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আশ্বস্ত করতে, মানুষের সাহায্যার্থে ওয়ার্ডের একাধিক জায়গায় সহায়তা ও সচেতনতা শিবির করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভ্রাম্যমাণ শিবির।” ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই উদ্যোগ স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করল। মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে ভোটকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে দলীয় কর্মীরা যে ভূমিকা নিয়েছেন, তা এলাকার মানুষের মনে স্বস্তি ও আস্থা দুইই বাড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *