সৃষ্টিশীলতা, সংস্কৃতি ও স্বনির্ভরতার বার্তা নিয়ে আসছে ‘সৃষ্টিশী মেলা ২০২৫’

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী,দুর্গাপুর :— দুর্গাপুরে আবারও শুরু হতে চলেছে সৃষ্টিশীলতার এক বর্ণময় অধ্যায়। আসন্ন ‘সৃষ্টিশী মেলা ২০২৫’ কে ঘিরে প্রস্তুতির ঝাঁপ মনোযোগ কেড়েছে শহরবাসীর। সোমবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর নগর নিগমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হল আয়োজক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে মেলার সার্বিক রূপরেখা ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও সুবিধা, স্টল বরাদ্দ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অগ্নিনির্বাপণ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহ প্রতিটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে চূড়ান্ত খসড়া তৈরির কাজ এগোয়।এই প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সঙ্গে ছিলেন দুর্গাপুর নগর নিগমের চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, এডিডিএর চেয়ারম্যান কবি দত্ত, মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস সহ মেলা কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা।


আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে সৃষ্টিশী মেলা ২০২৫। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি হস্তশিল্প, গ্রামীণ শিল্পজাত পণ্য, পোশাক, খাদ্য সামগ্রী থেকে শুরু করে হস্তসজ্জার বিস্তৃত সমাহার, সবই মিলবে এক ছাদের নীচে। প্রতিদিন থাকছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত, নৃত্যানুষ্ঠান ও শিশুদের বিশেষ আকর্ষণীয় কর্মসূচি।প্রশাসনের দাবি, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেলাপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি নজরদারি, মেডিক্যাল ইউনিট, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পর্যাপ্ত শৌচালয় ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হবে। মেলা চলাকালীন যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থাও বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “প্রথম বর্ষের তুলনায় দ্বিতীয় বর্ষের সৃষ্টিশ্রী মেলায় মানুষের অনেক বেশি উপস্থিতি ছিল। আশা করা হচ্ছে এ বছর আরও বেশি জনসমাগম ঘটবে। বিভিন্ন হস্তশিল্পের সামগ্রী, মাটির জিনিসের পাশাপাশি রসনা তৃপ্তির এক ঝাঁক পসরা থাকছে এবারের মেলায়। মেলা উপলক্ষে এসবিএসটিসি’র বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।”
সব মিলিয়ে সৃষ্টিশী মেলা ২০২৫ শুধু কেনাবেচার উৎসব নয়,এটি বাংলার গ্রামীণ সৃষ্টিশীলতার এক বৃহৎ জানলা, যেখানে মাটির গন্ধ মেশে শিল্পের দক্ষতায়, আর শহরের মানুষের সঙ্গে গ্রাম্য শিল্পীর সৃষ্টি গড়ে তোলে নতুন এক সেতুবন্ধন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *