বনদপ্তরের অভিযানে উদ্ধার ছ’টি বিরল বাজপাখি, গ্রেফতার ১

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী,দুর্গাপুর:— বাজপাখি পাচারের বড়সড় চক্রকে নস্যাৎ করল দুর্গাপুর রেঞ্জের বনদপ্তর। বুধবার গভীর রাতে বাঁশকোপা টোল প্লাজার সামনে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি চারচাকা গাড়ি আটকে উদ্ধার হয় মোট ছ’টি বাজপাখি। ঘটনাস্থলেই গ্রেফতার করা হয় গাড়ির চালক শেখ ওয়াজেদ, পূর্ব বর্ধমানের দুবরাজদীঘির বাসিন্দা।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, বিহার থেকে বর্ধমান হয়ে বাজপাখিগুলি অন্যত্র পাচারের পরিকল্পনা ছিল। রেঞ্জ অফিসার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,“সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। গাড়ি দাঁড়াতেই পুরো চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়। চালক নিজেই পাচারচক্রের অংশ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”


কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন,এই বিপন্ন প্রজাতির পাখিগুলি বর্ধমানের উদ্দেশ্যে কেন আনা হচ্ছিল? তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়? পাচারচক্রের মাথারা কারা?একজন চালক ধরা পড়লেই কি পাচার বন্ধ হয়ে যায়? নাকি বড় মাথারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে?প্রশ্ন উঠছে আরও, এত নজরদারি সত্ত্বেও সীমান্ত পেরিয়ে বন্যপ্রাণ পাচার কীভাবে চলছেই? কোথায় প্রশাসনিক ফাঁক?


উদ্ধার হওয়া বাজপাখিগুলি বনদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে, এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এলো পুরনো আশঙ্কা বন্যপ্রাণ পাচারের নেটওয়ার্ক কি আরও গভীর?
বাজপাখির মতো সংরক্ষিত প্রজাতি বারবার পাচারচক্রের টার্গেট হলে বোঝা যায় বন্যপ্রাণ সুরক্ষার আইন রয়েছে, কিন্তু তার কার্যকর প্রয়োগ এখনও অসম্পূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *