বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী,দুর্গাপুর : রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) উচ্ছেদ অভিযানে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ল উন্নয়নের সংজ্ঞা। দুর্গাপুরের ডিটিপিএস এলাকার অর্জুনপুর বস্তিতে জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে শনিবার ডিভিসি আধিকারিকদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, ঝাঁটা হাতে রনংদেহি মূর্তিতে প্রতিবাদে নামেন বস্তির মহিলারা।বস্তিবাসীদের বক্তব্য, তাঁরা একদিন-দু’দিন নয় বরং দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁদের ঘরবাড়ি, রুজি-রোজগার, সন্তানদের স্কুল সবই এই এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে। কোনও লিখিত পুনর্বাসন পরিকল্পনা বা বিকল্প বাসস্থানের নিশ্চয়তা না দিয়েই উচ্ছেদ চালানো হলে তাঁরা কোথায় যাবেন?

অন্যদিকে ডিভিসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার অমিত মোদি জানান, “ওই জমিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতেই জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে তাঁর দাবি। কিন্তু বস্তিবাসীদের বাধার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।”বিদ্যুৎ প্রকল্প রাজ্যের জন্য জরুরি এ নিয়ে বিতর্ক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, উন্নয়নের নামে কি মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়াই একমাত্র পথ?

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিসেবে ডিভিসির কি দায়িত্ব নয়, উচ্ছেদের আগে স্বচ্ছ ও মানবিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করা?পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ কি আদৌ সংবিধানসম্মত?গরিব মানুষের ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ছবি নয়? উন্নয়ন যদি মানুষের অস্তিত্ব মুছে দেয়, তবে সেই উন্নয়ন কাদের জন্য?অর্জুনপুর বস্তির প্রতিবাদ আজ শুধু একটি এলাকার ক্ষোভ নয়, এ এক বৃহত্তর প্রশ্ন, যেখানে উন্নয়ন ও মানবিকতার সংঘর্ষ স্পষ্ট।
