বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী,দুর্গাপুর:— এডিডিএর জমিতে বেআইনি দোকান উচ্ছেদ, এই খবর নতুন নয়। কিন্তু উচ্ছেদের আড়ালে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, তা দুর্গাপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বুকে তীক্ষ্ণ ছুরির মতো বিঁধছে। মঙ্গলবার দুর্গাপুর জংশন মলের পাশে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই দোকানদারদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা।দোকানদারদের অভিযোগ, বছরের পর বছর মাসের পর মাস ধরে প্রতি মাসে দোকানপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন, এই টাকা নেওয়া হচ্ছিল কার অনুমতিতে? যদি দোকানগুলি বেআইনি হয়, তবে বেআইনি দোকান থেকে টাকা নেওয়াটাও কি বেআইনি নয়? নাকি বেআইনি টাকা তোলার ক্ষেত্রে আইন গান্ধারী হয়ে যায়?

এই তোলাবাজির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা দেবাংশু রায়ের নাম উঠে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে অস্বস্তি । কিন্তু শুধু অস্বীকার করলেই কি দায় এড়ানো সম্ভব? যখন একাধিক দোকানদার একই অভিযোগ করছেন, তখন সেই অভিযোগ কি হাওয়ায় ভেসে আসা গল্প? নাকি শিল্পশহরের অলিগলিতে লুকিয়ে থাকা বহুদিনের রহস্য উৎঘাটন?উচ্ছেদের পর দোকানদারদের প্রশ্ন, যদি এতদিন নিয়মিত টাকা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে হঠাৎ করে কার নির্দেশে দোকান ভাঙা হলো? উচ্ছেদের আগে কি একবারও বলা হয়েছিল যে দোকান বেআইনি, আর টাকা দেওয়া বন্ধ করুন? নাকি টাকা যতদিন এসেছে, ততদিন সব বৈধ, আর টাকা বন্ধ হতেই পড়ল বুলডোজারের কোপ?এক দোকানদার অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন,

মাসের পর মাস টাকা দিয়েও আজ তাঁরা রাস্তায়। এই উচ্ছেদ আসলে প্রশাসনের গালে চপেটাঘাত তা বলাই বাহুল্য। প্রশ্ন উঠে আসে এই টাকার কথা কি প্রশাসন জানত না? নাকি সবাই সবটা জেনেও চুপ ছিল?জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রমাণ জোগাড় করার দায় কার? যারা টাকা দিয়েছে, তারা তো রাস্তায় বসে আছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা দিব্যি অস্বীকার করে চলেছেন। এই ফাঁকে সত্যটা কি আবার চাপা পড়ে যাবে?যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সেই দেবাংশু রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর নামের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করলেই কি শহরের ক্ষোভ মুছে যায়? যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তবে কেন এতদিন দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে? আর যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এতদিন ধরে প্রশাসন কী করছিল?একদিন উচ্ছেদ করে দায় সেরে নেওয়া যাবে, কিন্তু মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবে না।
হপ্তা নিলে রক্ষা, দোকান ভাঙলে আইন, এই দ্বিচারিতা আর চলতে পারে না। দেবাংশু রায় বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য না মিথ্যা ,তা প্রমাণ করবে তদন্ত। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত প্রশ্ন থামবে না।
কারা টাকা নিল? কার নির্দেশে নিল? আর কেন এতদিন নীরব ছিল প্রশাসন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে শহরবাসী।
