বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী , দুর্গাপুর : ভোরের অন্ধকারে যখন শহর নিশ্চিন্ত ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আগুনের লেলিহান শিখা ছিঁড়ে দিল দুর্গাপুরের বিধাননগর হাউজিং কলোনির নীরবতা। আটটু ব্লকের ২৭৯ নম্বর কোয়ার্টারে স্কুটিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।স্কুটির মালিক রানা ঘোষের অভিযোগ,“এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়,এটি সুপরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। তাঁর স্কুটি একতলা সিঁড়ির নীচে রাখা ছিল। ভোর আনুমানিক চারটে নাগাদ একতলার প্রতিবেশী তপনবাবু আচমকা বিকট শব্দ শুনে দরজা খুলতেই দেখেন, স্কুটিটি দাউদাউ করে জ্বলছে। চিৎকারে ঘুম ভাঙে আশপাশের বাসিন্দাদের। সেই হট্টগোলেই নিচে নেমে আসেন রানা ঘোষ, নিজের চোখের সামনে জ্বলতে দেখেন তাঁর স্কুটি।

রানা ঘোষের সন্দেহ, সিঁড়ির পিছন দিক থেকে লাঠির মাথায় ‘রকেট’ বেঁধে ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুটিতে আগুন লাগানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আগুনের ধরন সেই সন্দেহকেই জোরালো করছে বলে তাঁর দাবি। খবর পেয়ে দ্রুত বিধাননগর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।এই ঘটনায় উঠছে একের পর এক প্রশ্ন, এই আগুন কি কেবল একটি স্কুটির ক্ষয়ক্ষতি? নাকি এটি কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতার আগাম বার্তা?

আবাসনের ভিতরেই যদি এমন দুঃসাহসী কাণ্ড ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা ঢুকল কীভাবে কোথায় ফাঁক রইল নজরদারিতে?একটি স্কুটি পুড়েছে কিন্তু তার সঙ্গে পুড়ে গেছে এলাকার নিরাপত্তাবোধ। বিধাননগরের মতো আবাসিক এলাকায় যদি ভোররাতে এমন অগ্নিসংযোগ ঘটে, তবে তা শুধু অপরাধ নয়, এ এক সরাসরি চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের প্রতি। এখন দেখার তদন্ত কোন পথে এগোয় আর দুষ্কৃতী কত তাড়াতাড়ি চিহ্নিত হয়।
