আইন কি থানা চত্বরে থমকে গেল? অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর:—বছরের প্রথম দিনেই দুর্গাপুর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড আশীষনগর এলাকার এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ উঠেছে, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার শশাঙ্কশেখর মণ্ডলের দাদা শিবপ্রসাদ মণ্ডল ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।অভিযুক্তর অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে কোকওভেন থানার সামনে বিক্ষোভে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শিবপ্রসাদ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে আসছে। বারবার অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি এলাকাবাসীর।বিক্ষোভকারী বীরেন মণ্ডলের অভিযোগ“পুলিশ কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু আশ্বাসে আর ভরসা নেই। বাস্তব পদক্ষেপই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি।”বিক্ষোভকারী বীরেন মণ্ডল জানান,“পুলিশ আপাতত কেস ডায়েরি করেছে এবং তরুণীকে নিয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার নারীদের উপর নানাভাবে অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে।”এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণেই কি পুলিশ এতটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে? গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়া প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।বিক্ষোভকারী শ্রেয়া ঘোষ জানান,“যা ঘটেছে তা অত্যন্ত জঘন্যতম ঘটনা। ঘটনার খবর জানতে পেরেই এলাকাবাসীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছি। অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাই।”বিক্ষোভকারীরা হুশিয়ারি দেন অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ মন্ডলকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। এই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন, শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের এত বিলম্ব কেন? অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় কি আইনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে?অতীতের অভিযোগগুলি কি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে?


সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আদৌ কতটা সক্রিয়?এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে অপরাধ বাড়বে না তো?জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী মেঘনা মান্না জানান,“অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও বহুবার মহিলাদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তার দাদার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। আজ আমাদের থানার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলোনা। পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়ে থানার ভেতরে সেটিং করবে এটা হতে দেওয়া যাবেনা। অবিলম্বে অপরাধীকে গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে।”এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি তরুণীর অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়, এটি প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার বড় পরীক্ষা। অভিযোগ গুরুতর হলে দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল। বিলম্ব যত বাড়ছে, ততই সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে আইন কি সত্যিই সমান, না কি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা নিয়ম চলে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *