সংবাদদাতা ,দুর্গাপুর:—একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের অজ্ঞান হয়ে পড়া কি নিছক শারীরিক অসুস্থতার ঘটনা, না কি প্রশাসনের উপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের প্রতীক? পাণ্ডবেশ্বর ব্লক অফিসে এসআইআর শুনানির মাঝেই এইআরও তথা সহ কৃষি অধিকর্তা স্নিগ্ধা চট্টোপাধ্যায়-এর অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে সেই প্রশ্নই উসকে দিল। টানা শুনানি, নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন এবং ক্রমাগত নজরদারির মাঝেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বিডিও বৃষ্টি হাজরা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে দুর্গাপুরের গান্ধী মোড় এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

চিকিৎসকেরা জানান, অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপের ফলেই তাঁর রক্তচাপ বেড়ে যায়।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর শুনানি কি আদৌ এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশাসনিক কর্মীদের স্বাভাবিক কর্মপরিসর ও মানবিক সীমা উপেক্ষিত হচ্ছে? নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে যদি প্রশাসনের শরীরই ভেঙে পড়ে, তবে সেই স্বচ্ছতার দায় নেবে কে?এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত,

“প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আড়ালে এমন এক রাজনৈতিক বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”অন্যদিকে বর্ধমান দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের দাবি,“এসআইআর প্রক্রিয়া অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার জন্যই চলছে।”রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যেই প্রকৃত উদ্দেশ্যের আভাস মিলছে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের নামে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডার ব্যবহৃত হওয়াই কি ইঙ্গিত দিচ্ছে না, এসআইআর কেবল প্রশাসনিক নয়, স্পষ্টতই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে? যদি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়, তবে কেন তার ভাষা, ব্যাখ্যা ও প্রচারে একতরফা রাজনৈতিক সুর বারবার উঠে আসছে? আর সেই সুরের ভার বইতে গিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকরাই যখন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তখন দায়িত্বের ভারসাম্য কোথায়?এসআইআর শুনানির মঞ্চে একজন আধিকারিকের অজ্ঞান হয়ে পড়া প্রশাসনের দুর্বলতার নয়, বরং রাজনৈতিক চাপে প্রশাসনের ব্যবহৃত হওয়ার প্রতীক। নির্বাচন প্রক্রিয়া কি তবে নিরপেক্ষতার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করে দেবে, এসআইআর আদৌ প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পথ, না কি ভোট রাজনীতির নতুন অস্ত্র।
