দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চালু হচ্ছে ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট,

সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : – দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ও অর্থানুকূল্যে হাসপাতাল চত্বরে পথ চলা শুরু করতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট’। সোমবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক সূচনা কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। এবার শিল্পাঞ্চলবাসী স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়সড় সাফল্য পেতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট’।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা অর্থ ব্যয়ে এই বিশেষ ইউনিটটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রক্তদানের পর সংগৃহীত রক্ত থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের বিভিন্ন উপাদান আলাদা করার পরিকাঠামো সব জায়গায় থাকে না। এই নতুন ইউনিটটি চালু হওয়ার ফলে রক্ত থেকে প্লেটলেট, প্লাজমা এবং প্যাকড রেড ব্লাড সেল আলাদা করা সম্ভব হবে। এর ফলে এক ইউনিট রক্ত থেকে রক্তের বিভিন্ন উপাদান পৃথক করার ফলে একজন রক্তদাতার রক্তে তিন থেকে চারজন রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে এবং রক্তের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ছাড়াও এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এডিডিএ’র চেয়ারম্যান তথা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান কবি দত্ত, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডঃ ধীমান মন্ডল, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ ডঃ করোবি কুণ্ডু সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান,

“এতদিন ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেটর না থাকায় রক্তের উপাদান সেপারেট করার জন্য সেটা আসানসোলে পাঠানো হত। ফলে রক্ত সেপারেট হয়ে এখানে আসতে অনেক সময় লাগত। তবে এখন হাসপাতালে ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট চালু হলে অনেকাংশে সুবিধা হবে এবং নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্তের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হবে।”এডিডিএ’র চেয়ারম্যান তথা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান কবি দত্ত জানান,

“কোন মহকুমা হাসপাতালে এই প্রথম এই ধরনের ব্লাড কম্পোনেন্ট সেপারেশন ইউনিট চালু হচ্ছে। শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি ল্যাপরোস্কোপি মেশিনও খুব শীঘ্রই এই হাসপাতালে আসতে চলেছে। এছাড়াও এখানে সিটি স্ক্যান, ডায়ালিসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা বিনামূল্যে করাতে পারবেন রোগীরা। ফলে এখন মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার মান অনেক অনেক উন্নত হয়েছে। এর ফলে শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়, এর পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া বা বীরভূমের মতো পার্শ্ববর্তী জেলার রোগীরাও উপকৃত হবেন।”দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডঃ ধীমান মন্ডল জানান,“এতদিন হাসপাতালে সুযোগ সুবিধা না থাকার ফলে সম্পূর্ণ রক্ত সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হত। ফলে অনেকাংশেই রক্তের ঘাটতি হত। এছাড়াও প্লেটলেট, প্লাজমার জন্য আলাদা করে আসানসোলে রক্ত সেপারেশনের জন্য পাঠাতে হত, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। এখন এই অত্যাধুনিক ব্লাড সেপারেট ইউনিট চালু হলে রক্তের অপচয় কম হবে।”দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ ডঃ করোবি কুণ্ডু জানান,“এই ইউনিট চালু হওয়ার ফলে রক্ত সংগ্রহের নির্ধারিত সময়ে ৬ ঘণ্টার মধ্যেই রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান আলাদা করা সম্ভব হবে এবং এর ফলে রক্তের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং রক্তের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার সম্ভব হবে।”বলাই বাহুল্য এই পরিষেবা উন্নত চিকিৎসায় একটি বড় পদক্ষেপ। রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই ইউনিটটি তারই প্রতিফলন। এই ইউনিট চালু হওয়ায় দুর্গাপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মানুষকে আর অন্যত্র ছুটতে হবে না। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই জরুরি মুহূর্তে প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ অনেকটাই বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *