সংবাদদাতা ,দুর্গাপুর:—শিল্প শহরের দীর্ঘদিনের নীরব সংকট, ক্রমবর্ধমান বর্জ্য অবশেষে স্থায়ী সমাধানের পথে এক ধাপ এগোলো। শংকরপুরে গড়ে উঠতে চলেছে এক নতুন, আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনায় এবং আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ-এর ব্যবস্থাপনায় এই প্রকল্পের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল।
এই কেন্দ্র নির্মাণের জন্য এডিডিএ ইতিমধ্যেই ২৫ একর জমি বরাদ্দ করেছে। সোমবার সেই জমি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজের শিলান্যাসের মাধ্যমে সূচিত হয় প্রকল্পের প্রথম দৃশ্যমান অধ্যায়। এডিডিএ সূত্রে জানা গেছে, এই পর্বের জন্য প্রায় এক কোটি একচল্লিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
দুর্গাপুর নগর নিগম সূত্রে খবর, বাম আমলে দুর্গাপুরে একটি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু থাকলেও প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় তা কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। তার পর থেকেই শংকরপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার নেয়। স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় গভীর অনিশ্চয়তা।

এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর নতুন করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সোমবারের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, এডিডিএ-র চেয়ারম্যান কবি দত্ত, নগরোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব ও সুডা-র ডিরেক্টর জলি চৌধুরী এবং দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ সহ একাধিক আধিকারিক।
অনুষ্ঠানে জলি চৌধুরী জানান, “আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই এই নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হয়ে যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন করা হবে। পরবর্তী ধাপে বর্জ্য থেকেই সিএনজি গ্যাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি কার্যকর হলে দৈনিক প্রায় ১৬০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে।”প্রশাসনিক মহলের মতে, এই প্রকল্প কেবল শহরের বর্জ্য সমস্যার সমাধানই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ উৎপাদন এবং বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
শংকরপুরের এই প্রকল্প প্রমাণ করে, যথাযথ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বর্জ্যও বোঝা নয়, বরং সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। শিল্পনগরের ধুলোমাখা বাস্তবতায় এই উদ্যোগ যেন পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ জ্বালানির এক যৌথ প্রতিশ্রুতি।
