সংবাদদাতা , দুর্গাপুর:—দুর্গাপুরের অর্জুনপুর গ্রামে শাসকদলের অন্দরেই কি তবে অশান্তির আগুন জ্বলছে? তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী মলয় মণ্ডলের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন জোরালো। অভিযোগের তির ছুটছে দলীয় অন্দরের দিকেই। প্রকাশ্যে শাসকদলের ঐক্যের বার্তা, অথচ আড়ালে কি তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নির্মম বহিঃপ্রকাশ?

ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজন নিরীহ মানুষকে আটক করেছে , এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার ডিটিপিএস ফাঁড়ি ঘেরাও করেন মহিলা তৃণমূল কর্মীরা। দলীয় পতাকা হাতে ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভে শামিল হন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে নিরীহদের মুক্তি দিতে হবে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভাঙচুরের ঘটনার প্রকৃত দোষীরা কোথায়? আর কেনই বা সন্দেহের তালিকায় নিরীহরা?এদিন বিক্ষোভকারী তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্ব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, কারও ইশারায় পুলিশ কাজ করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। শাসকদলের কর্মীরাই যখন পুলিশের বিরুদ্ধে এই ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। এখানেই শেষ নয়, যদি ঘটনাটি সত্যিই দলীয় অন্দরের সংঘাতের ফল হয়, তবে শাসকদলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়। আর যদি তা না হয়, তবে তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের ভূমিকা কেন এত বিতর্কিত সে প্রশ্নও এড়ানো যায় না।

অর্জুনপুরের ভাঙচুর কাণ্ড একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলার দিকে প্রশ্ন তুলেছে, তেমনই উন্মোচন করেছে শাসকদলের অন্দরের অস্বস্তিকর বাস্তবতা। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হোক বা প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ, দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং শাসকদলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। এখন দেখার, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত আদৌ হয় কি না, নাকি ক্ষমতার রাজনীতিতে সত্য আবারও চাপা পড়ে যাবে।
