বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর: : দুর্গাপুর এজোন নর্থ এভিনিউ এলাকায় এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার ভোরে বাড়ির শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয় ২৫ বছর বয়সি শ্রেয় শর্মার ঝুলন্ত দেহ। হঠাৎ এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার, স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও।পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা হাসপাতালে। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।মৃত যুবক শ্রেয় শর্মা একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত থেকে আট মাস ধরে কোক-ওভেন থানার অধীন দুর্গাপুরের রায়ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনই কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

মৃতের দিদি পূজা শর্মার অভিযোগ, সাম্প্রতিক ফোনে কথা বলার সময় শ্রেয়র আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। দু’জনের মধ্যে প্রায়শই মনোমালিন্য ও অশান্তি লেগেই থাকত বলে দাবি পরিবারের। বিষয়টি যখন বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত গড়ায়, তখন যুবতীর পরিবার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। সেই প্রত্যাখ্যানের পর থেকেই শ্রেয় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ।পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই মানসিক চাপ থেকেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছেই, একজন তরুণ, কর্মরত যুবক কি নিজের যন্ত্রণার কথা কাউকে জানানোর সুযোগই পেলেন না? মানসিক অবসাদ কি এতটাই গভীরে পৌঁছেছিল যে, আর কোনও পথ খোলা ছিল না?এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর নেপথ্যে প্রেমঘটিত মানসিক অবসাদ ছিল কি না, সেই দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা ফের একবার সমাজের সামনে কঠিন প্রশ্ন তুলে দিল, প্রেমে ব্যর্থতা, সম্পর্কের চাপ ও সামাজিক প্রত্যাখ্যান কি এখনও তরুণ প্রজন্মের কাছে অসহনীয় বোঝা হয়ে উঠছে? মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব কি আমরা আজও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারছি?শ্রেয় শর্মার মৃত্যু শুধুমাত্র একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি আমাদের সময়ের এক গভীর সামাজিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। প্রেম, প্রত্যাখ্যান ও মানসিক অবসাদের জটিল গিঁটের সামনে দাঁড়িয়ে একজন তরুণ কীভাবে নিঃশব্দে হারিয়ে গেল, তার উত্তর এখনও অজানা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সময়ের আগে বড় হয়ে যাওয়া এই প্রজন্মের মানসিক যন্ত্রণার ভার নেওয়ার দায় কি শুধুই তাদের একার? নাকি পরিবার, সমাজ ও সম্পর্কের কাঠামো একসঙ্গে ব্যর্থ হয়েছে?
