বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ‘মিশন বেঙ্গল’ কে পাখির চোখ করে রাজ্য রাজনীতিতে আক্রমণাত্মক মেজাজে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল বিজেপি। বুধবার সকালে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী ভিরিঙ্গি কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজ্য সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করলেন বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। দলের শীর্ষ পদে বসার পর এটাই তাঁর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফর। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। মন্দির চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত কার্যত শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে ধর্মীয় আবহে বার্তা দেওয়াই ছিল বিজেপির এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এদিন সকালে মন্দিরে পৌঁছে তিনি দেবী দর্শনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও আসন্ন নির্বাচনে সাফল্য কামনা করে প্রার্থনা করেন। পুজো শেষে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। মন্দিরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রাহুল সিনহা তিনি জানান,

“ভিরিঙ্গী কালী মন্দিরের ইতিহাস জানার পর মাকে সচক্ষে দর্শন ও পুজো দেওয়ার জন্য ইচ্ছাপ্রকাশ করেন নীতিনজি। তাই আজ সকালে মন্দিরে মাকে পুজো দিয়ে তিনি আপ্লুত।”যদিও এর মাঝেও শাসকদলকে আক্রমন করে তিনি জানান,“পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলরাজ চলছে। কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই এখানে। তাই সুস্পষ্ট ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এখানে এবং সময় অনুযায়ী আরোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।”মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান,”সিঙ্গুরে না শিল্প আছে না চাষ আছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আজ বাংলায় কোন শিল্প নেই। রাজ্যের বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ওনার উচিত সিঙ্গুরের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কমল মেলার উদ্বোধনে মঙ্গলবার সায়াহ্নে দুর্গাপুরে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সিটিসেন্টারের একটি বেসরকারি অভিজাত হোটেলে রাত্রিবাস করেন তিনি এবং সেখানে রাজ্য নেতৃত্বের সাথে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি, যেখানে বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলা সংগঠন ঢেলে সাজানো, কর্মীদের মাঠে নামানো এবং ২০২৬-এর ভোটযুদ্ধে আক্রমণাত্মক রণকৌশল রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
দুর্গাপুর থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক তৎপরতা যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সফর তা স্পষ্ট করে দিল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির লড়াই যে এখনই জমে উঠছে, তারই ইঙ্গিত মিলল দুর্গাপুরে।
