টানাপোড়েনের অবসান,গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া কাটিয়ে কল্পতরু মেলায় ফের স্বস্তি,

বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর: দীর্ঘ টালবাহানা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে শুরু হল দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী কল্পতরু মেলার স্টল বুকিং। সোমবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টল বুকিং-এর কাজ শুরু হয়। ফলে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা মেলার দোকানিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।দোকানদার শম্ভু সিং জানান, “আজকে দোকান বুকিং করতে পেরে ভালো লাগছে। পরশু এসে ফিরে যেতে হয়েছিল।”উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন আগেএ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে হঠাৎই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কল্পতরু মেলার স্টল বুকিং প্রক্রিয়া। এর জেরে দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় দোকান দিতে আসা বহু ব্যবসায়ীকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একদিন বুকিং শুরু হলেও, ফের তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই অনিশ্চয়তার আবহে দোকানিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তবে সোমবার পরিস্থিতির বদল দেখা যায়। নির্ধারিত কাউন্টারে স্বাভাবিক নিয়মে স্টল বুকিং শুরু হওয়ায় মেলাকে ঘিরে ফের আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলা কমিটির সদস্য জয়ন্ত ব্যানার্জী জানান, “চেয়ারপার্সনের নির্দেশে আজ থেকে মেলায় স্টল বুকিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আর কোন সমস্যা হবেনা।”প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরের কল্পতরু উৎসব শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরে কল্পতরু উৎসব ৫৭ বছরে পদার্পণ করেছে, যা মেলার গুরুত্ব ও ঐতিহ্যকে আরও একবার তুলে ধরছে।দীর্ঘদিনের জটিলতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন কাটিয়ে কল্পতরু মেলার স্টল বুকিং শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন দোকানিরা। তবে ভবিষ্যতে যাতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ও দৃঢ় পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলেই। সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে ৫৭তম বর্ষের কল্পতরু উৎসব সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *