সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : শিল্পনগরী দুর্গাপুর-এর বিনোদন মানচিত্রে যুক্ত হল এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। সিটি সেন্টারের প্রাণকেন্দ্র গান্ধী মোড়স্থিত সুপরিচিত জংশন মল-এ আত্মপ্রকাশ করল এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্টের অত্যাধুনিক মাল্টিপ্লেক্স শাখা। বুধবার টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দেব-এর উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রেক্ষাগৃহের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যামেরার ঝলকানি, অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস এবং আত্মপ্রকাশের আবহে মল প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল উৎসবমুখর মিলনক্ষেত্রে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম, নান্দনিক অন্দরসজ্জা ও আরামদায়ক আসন সব মিলিয়ে এই নতুন মাল্টিপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ বিনোদন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থা। আগামী ২০ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, দুপুর ১টা থেকে সাধারণ দর্শকদের জন্য খুলে যাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহের দরজা।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টলিউড অভিনেতা দেব সমকালীন প্রেক্ষাপটে প্রেক্ষাগৃহ সংস্কৃতির রূপান্তরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “ডিজিটাল যুগে দর্শকের প্রত্যাশা বদলেছে; সিনেমা দেখা এখন আর নিছক চলচ্চিত্র উপভোগ নয়, বরং এক সামগ্রিক অবকাশযাপন। শপিং মল আজ বন্ধুমহলের মিলনক্ষেত্র, আর সেই আবহে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করা সমকালীন জীবনরীতির অংশ হয়ে উঠেছে।”দেবের কথায় , সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে শুধু ফিল্ম দেখা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আউটিং-এ পরিণত করাই এখন লক্ষ্য।উল্লেখ্য, বেনাচিতিতে এসভিএফ এর একটি শাখা পূর্বেই চালু থাকলেও, জংশন মলের এই নতুন মাল্টিপ্লেক্স প্রযুক্তি ও আরাম-আয়োজনে অধিকতর সমৃদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরেই বৃহৎ বিনোদন পরিকাঠামোর অভাব অনুভব করা দুর্গাপুরে এই সংযোজন নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।এই নতুন শাখাটি নিয়ে আশাবাদী সংস্থার কর্ণধার মহেন্দ্র সোনি তাঁর দাবি, “কলকাতার বাইরে এত উচ্চমানের সাউন্ড ও সিটিং অ্যাম্বিয়েন্স বিরল। ৯৯টি রিক্লাইনার-সহ সুসজ্জিত আসনব্যবস্থা এবং উন্নত ফুড কোর্ট এই প্রেক্ষাগৃহকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। সাধারণ দর্শকের কথা বিবেচনায় রেখে টিকিটের মূল্য শুরু হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে, যদিও উৎসব মরশুমে সামান্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।”শিল্প ও শিক্ষার শহর দুর্গাপুরে এবার যুক্ত হল আধুনিক বিনোদনের নতুন আলোকবর্তিকা। রুপোলি পর্দার মোহ, প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং নাগরিক অবকাশের সম্মিলনে জংশন মলের এই মাল্টিপ্লেক্স কেবল একটি প্রেক্ষাগৃহ নয়, এটি সমকালীন নগরজীবনের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি। এখন সময়ই বলবে, শহরবাসী কত দ্রুত এই নতুন ঠিকানাকে আপন করে নেন। তবে উদ্বোধনী দিনের উচ্ছ্বাস ইঙ্গিত দিচ্ছে শিল্পনগরীর আকাশে রুপোলি আলোর এই দ্যুতি দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে।
