সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সেকথা জানতে পেরে বীরভূমের ভীমগড়ের রতনপুর থেকে একাই রওনা দিয়েছিলেন বৃদ্ধা মা। প্রথমে তিনি বাসে করে এসে পৌঁছান বেনাচিতিতে। তারপর সেখান থেকে ফের বাসে ওঠেন। গান্ধী মোড়ের কাছে বেসরকারী হাসপাতালের কাছে তাঁকে নামিয়ে দেয় বাসের কন্ডাক্টর।কিন্তু,ওই হাসপাতালে তাঁর ছেলে ভর্তি নেই। এরপর কি করবেন,কোথায় যাবেন ভাবতে ভাবতে হাসপাতাল চত্বরেই এদিকএদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময় ওই বৃদ্ধাকে নজর করেন ট্রাফিক গার্ডের দায়িত্বে থাকা সৌরভ দাস। তিনি কাছে গিয়ে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন যে,তাঁর ছেলে বিধাননগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু তিনি সঠিক সেই ঠিকানা জানেন না। ছেলের জন্য বৃদ্ধার উৎকন্ঠার কথা জানতে পেরে কর্তব্যরত ট্রাফিক গার্ড বিষয়টি ফোন করে জানান ট্রাফিক ওসি সুকান্ত দাসকে। খবর পেয়েই তিনি চলে আসেন গান্ধী মোড়ে। বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর ব্যাগ থেকে অবশেষে একটি ফোন নম্বর পেয়ে যোগাযোগ করেন আত্মীয়র সঙ্গে। জানা যায় বিধানননগরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে তার ছেলে ভর্তি রয়েছে। দেরী না করে ট্রাফিক ওসি সুকান্ত দাস নিজের গাড়ি করে বৃদ্ধাকে বিধাননগরের হাসপাতালে পৌঁছে দেন। সেখানে তাঁর নাতনির হাতে তুলে দেন বৃদ্ধাকে। ছেলেকে দেখতে পাবেন এই ভেবে অবশেষে সমস্ত উৎকন্ঠার অবসান ঘটে ওই বৃদ্ধার। এই মানবিক ভূমিকার জন্য তিনি পুলিশকর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানান। দুর্গাপুর আবারও দেখল পুলিশের এক মানবিক মুখ।
অসহায় বৃ্দ্ধার পাশে দুর্গাপুরের ট্রাফিক পুলিশ
