রাঁচি কলোনিতে গণপিটুনি, আইনের আগে জনরোষ কেন?

সংবাদদাতা দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনিতে এক যুবককে ঘিরে গণপিটুনির ঘটনায় শুক্রবার সকালে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মহিলাদের ও নাবালিকাদের সঙ্গে অসদাচরণের কথা শোনা যাচ্ছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই অভিযোগগুলি কি আগে প্রশাসনের নজরে এসেছিল? অভিযোগ জানানো হলেও কি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? নাকি নীরব অভিযোগই জমে জমে একদিন বিস্ফোরণে পরিণত হলো?

সূত্র মারফত খবর , সম্প্রতি এলাকার এক নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, সে গর্ভবতী। এই তথ্য সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা।শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত যুবককে এলাকায় দেখতে পেয়ে উত্তেজিত জনতা তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। লাঠি নিয়ে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে পুলিশ পৌঁছে যুবককে উদ্ধার করে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখে।এখানেই উঠছে বড় প্রশ্ন, আইনের শাসন যেখানে বিদ্যমান, সেখানে জনতার আদালত বসার প্রয়োজন পড়ছে কেন? বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাব কি এতটাই প্রকট? গণপিটুনি কি ন্যায়বিচারের পথ, নাকি তা আরও অরাজকতার জন্ম দেয়?

পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।একদিকে নাবালিকার সম্ভাব্য শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, অন্যদিকে জনরোষের বিস্ফোরণ, এই ঘটনায় সমাজের এক অস্বস্তিকর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। আর যদি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনতা আইন হাতে তুলে নেয়, তবে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *