সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : হারবাল চকলেটের মোড়কে কি তবে নেশা ছড়ানো হচ্ছে? দুর্গাপুরে এক স্কুলছাত্রীর হাতে ভাং জাতীয় নেশার বস্তু পৌঁছে যাওয়ার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই আতঙ্কে অভিভাবক মহল, প্রশ্ন উঠছে, শহরের দোকানগুলোতে আদৌ কি নজরদারি রয়েছে?ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। জানা যায়, বেনাচিতি ধুনারা প্লট এলাকার এক স্কুলছাত্রী কোল্ড ড্রিংকস কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায়। অভিযোগ, সেই সময় দোকানদার তাকে ‘হারবাল চকলেট’ বলে একটি চকলেট জাতীয় কিছু বিক্রি করেন । শুক্রবার ছাত্রীটি সেটি নিয়ে স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে।

বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই তারা ছাত্রীর কাছ থেকে ওই বস্তুটি নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন। তখনই সন্দেহ হয়, সেটি আদৌ কোনও হারবাল চকলেট নয়, বরং ভাং জাতীয় কোনো নেশার উপাদান থাকতে পারে। সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীর অভিভাবকদের খবর দেন এবং পুরো বিষয়টি জানানো হয়।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধনুরা প্লট এলাকার ওই দোকানে গিয়ে দোকানদারের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। অভিযোগের মুখে দোকানদার নিজের ভুল স্বীকার করে জানান,
অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে এবং এর জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।তবে এখানেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন, কীভাবে একটি নেশাজাতীয় বস্তু সহজেই স্কুলছাত্রীর হাতে পৌঁছে গেল? দোকানে এমন বস্তু বিক্রি হচ্ছিলইবা কেন?
শিশুদের কাছে বিক্রি করার আগে কোনও সতর্কতা বা দায়িত্ববোধ ছিল না?ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার দুর্গাপুর থানার এজোন ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।হারবাল চকলেটের নামে নেশাজাতীয় বস্তু দেওয়ার অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দোকানে কী বিক্রি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি কতটা রয়েছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এখন দেখার, তদন্তে আসল সত্য সামনে আসে কিনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।
