বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গী শ্মশান কালী মন্দিরে বুধবার অনুষ্ঠিত হলো বাৎসরিক পূজো। অগ্রহায়ণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় মাতৃপুজো হয় এখানে। এ বছর এই পুজো পদার্পণ করল গৌরবময় ১৭৪ বছরে, আর তাই ভোর থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় মন্দির প্রাঙ্গণে।রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিপীঠ এই ভিড়িঙ্গী শ্মশান কালীমন্দিরে বহু তারকা, শিল্পী, সমাজসেবী থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার হোম-যজ্ঞ ও বিশেষ আরতিতে অংশ নিয়েছেন। এই মন্দিরের ঐতিহ্য, অলৌকিকতা এবং শক্তির মাহাত্ম্য বহু বছর ধরেই মানুষের মনকে আকর্ষণ করে আসছে।

সকাল থেকেই শুরু হয় ভোগ আরতি, মন্দির চত্বরে ধূপধুনোর সুগন্ধে ভরে ওঠে পরিবেশ। প্রতি বছরের মতো এদিনও মায়ের পুরনো বিগ্রহ নিরঞ্জন করা হয় এবং নবরূপে শ্যামা মাকে সুসজ্জিত করা হয় জবা ফুলের মালা ও স্বর্ণালংকারে। সাক্ত মতে নিত্য পূজিতা মা ভিড়িঙ্গী কালী এদিন বিশেষভাবে আবির্ভূতা হন ভক্তকুলের সামনে।এদিন ভক্তদের ভিড়ের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দণ্ডী কাটার আচার। অসংখ্য ভক্ত মনস্কামনা পূরণের আশায় মন্দিরের পাশের জলাশয় থেকে স্নান করে মন্দির প্রাঙ্গন পর্যন্ত দণ্ডী কেটে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, মা ভিড়িঙ্গী কালী সঠিক ভক্তির প্রতিদান অবশ্যই দেন।নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্দির জুড়ে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বসানো হয় পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, যাতে ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সবাই নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন। ভিড়িঙ্গী শ্মশান কালী মন্দির শুধু একটি পূজাস্থল নয়, এ যেন শক্তির প্রতীক, ভক্তির পীঠ এবং দুর্গাপুরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য ধারক। ১৭৪ বছরের ঐতিহ্যকে বুকে নিয়ে আজও এই মন্দিরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন মাতৃসান্নিধ্যের আশীর্বাদ নিতে। বাৎসরিক পূজোর দিন সেই ভক্তি ও বিশ্বাস আরও অনেকগুণ বেড়ে ওঠে, যেন ভিড়িঙ্গী কালী মা নিজেই আশীর্বাদের হাত বাড়িয়ে দেন সকলের প্রতি। মন্দিরের প্রধান সাধন রায়ের বোন ক্ষমা ঘোষাল জানান, “এই বছর এই পুজো ১৭৪ বছরে পদার্পণ করলো। আট দিন ধরে মায়ের পুজো, ভোগআরতি হয়। সেই উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রচুর সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটে। প্রায় ২৫ কিলো চিঁড়ে ও দই দিয়ে মায়ের ভোগপ্রসাদ হয় এবং তা ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এরপর বারের দিন গভীর রাতে মায়ের পুজো ও বলি সম্পন্ন হয়। এরপর খিচুড়ি, আলুরদম, পায়েস, বোঁদে, চাটনি সহযোগে ভোগ বিতরণ করা হয়। অষ্টমঙ্গলার দিন মায়ের পুজো উপলক্ষে এলাহি আয়োজন করা হয়। এদিন প্রায় দশ থেকে বারো হাজার লোককে খাওয়ানো হয়। প্রতিবছরই এই নিয়ম চলে আসছে। আমরাই গ্রামের সূত্রধর পরিবার বংশ পরম্পরায় মায়ের বিগ্রহ তৈরী করে আসছেন।”
