বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী, দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের শিল্পনগরীর অন্যতম স্থপতি, প্রাক্তন সাংসদ আনন্দ গোপাল মুখোপাধ্যায়ের আসন্ন শতবর্ষ জন্মদিবসকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহর জুড়ে তৈরি হলো শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণের আবহ। আনন্দ গোপাল মুখার্জী মেমোরিয়াল সোসাইটির উদ্যোগে এদিন আয়োজন করা হয় একটি বর্ণাঢ্য বাইক র্যালির, যা ভিড়িঙ্গী আনন্দ শিশু উদ্যান থেকে যাত্রা শুরু করে সিটি সেন্টার, ভগৎ সিং মোড়, স্টিল মার্কেট পাঁচ মাথা মোড় পরিক্রমা করে পুনরায় শিশু উদ্যানে ফিরে আসে। শহরের নানা প্রান্ত থেকে শতাধিক বাইক আরোহীর অংশগ্রহণে র্যালিটি যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল দুর্গাপুরের ভিত্তি, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছিলেন এক দূরদর্শী নেতা।

অবিভক্ত ভারতে ১৯২৫ সালের ২৬শে নভেম্বর জন্ম নেওয়া আনন্দ গোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন দুর্গাপুরের শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, পরিকাঠামো নির্মাণে নিরলস উদ্যোগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই আজকের দুর্গাপুর গড়ে উঠেছে পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী হিসেবে। তাঁর হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয় দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট। যা শুধু দেশের ইস্পাত উৎপাদনেই নয়, হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। শহরের টাউনশিপ গঠন, রাস্তা, আলো, পরিকাঠামো, পানীয় জল ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তিনি যে উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা এখনও শহরবাসীর জীবনে গভীরভাবে স্পর্শ রেখে গেছে।শতবর্ষ জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার অর্থাৎ আগামীকাল আনন্দ গোপাল মুখার্জী মেমোরিয়াল সোসাইটির উদ্যোগে ভিড়িঙ্গী আনন্দ শিশু উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছে একগুচ্ছ সমাজসেবামূলক কর্মসূচির। যেখানে থাকবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, রক্তদান শিবির, কানে কম শোনেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং মহিলাদের ক্যান্সার সচেতনতার বিশেষ আলোচনা। প্রতি বছরই তাঁর স্মৃতিতে নানা সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্যোগগুলিতে এবার বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে।দুর্গাপুরের উন্নয়ন আজ যে উচ্চতায় দাঁড়িয়ে তার পেছনে যে এক কিংবদন্তি নেতার নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও মানসিকতা লুকিয়ে আছে, শহরের মানুষ আজ সেই নির্মাতাকে আবারও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তাঁর জন্মশতবর্ষে শহরবাসীর একটাই অভিব্যক্তি একজন মানুষের স্বপ্নও কখনো কখনো একটি সম্পূর্ণ শহরকে নতুন পরিচয় দিতে পারে।
