বিধান চন্দ্র গাঙ্গুলী,দুর্গাপুর: অজয় নদ যেন আর নদ নেই, পাচার চক্রের বেপরোয়া দুঃসাহসে কখন যেন হয়ে উঠেছে ‘হাইওয়ে!’ ভিন জেলার বীরভূম থেকে বালি তুলে অজয়ের বুক চিড়ে কাঁকসার দিকে পাচার। এমন ভয়ংকর অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসল ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। অভিযোগের তীব্রতা এমন যে, ভূমি রাজস্ব দপ্তরের কর্তারা ম্যাপ হাতে সরাসরি নেমে পড়লেন মাঠে। শুরু হল নজিরবিহীন অভিযান।
বুধবার কাঁকসার বিদবিহার লাগোয়া একাধিক ঘাটে দীর্ঘক্ষণ চলে পরিদর্শন। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর সূত্রে খবর, যেখানে সরকারি ঘাটগুলির অধিকাংশই বীরভূম প্রশাসনের অধীনে, সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে এক নতুন কৌশলে চলছিল অবাধে বালি পাচার। প্রশাসনের অনুমতি তো দূরের কথা, অজয় নদের বুকের উপরেই বানানো হয়েছিল সাময়িক রাস্তা! সেই রাস্তা দিয়েই রাতের পর রাত বালি পাড়ি দিচ্ছিল কাঁকসায়।

সেদিনই অজয়ঘাট শিবপুর রাস্তায় একটি ট্রাক আটক করে প্রশাসন। পাশাপাশি একাধিক ট্রাক্টরকেও করা হয় মোটা অঙ্কের জরিমানা। অভিযানে অংশ নেওয়া আধিকারিকদের কার্যত হতবাক করে দিয়েছে পাচার চক্রের এই দুঃসাহস। নদীর বুকের উপর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে অবাধে বালি পরিবহন!এই নিয়ে তীক্ষ্ণ ভাষায় দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন,“অজয় ও দামোদর এই দুই নদের গতিপথ পর্যন্ত পরিবর্তন করে বালি পাচার চলছে! পুলিশ জানে না? সবই শাসক দলের মদতে।”

পাল্টা সুরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের তিনি জানান,“অবৈধ কাজ বরদাস্ত করে না প্রশাসন। তাই তো অভিযান চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।”
বালি পাচার নিত্যদিনের ঘটনা নয়, এ যেন প্রশাসনকে কাঁধে চাপিয়ে মাটি নিয়ে পালানোর মতো দৃশ্য। নদের বুককে রাস্তায় পরিণত করা শুধু অপরাধ নয়; পরিবেশ, নদীর প্রবাহ, সবকিছুর উপরই এটা ভয়াবহ করালাঘাত।অজয়ের নদের উপর দিয়ে বালি পাচারের এই ঘটনা শুধুমাত্র অবৈধ কার্যকলাপ নয়, বরং নদের অস্তিত্ব ও পরিবেশের উপরে সরাসরি হামলা। প্রশাসনের অভিযান অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায় এতদিন প্রশাসন কিভাবে কুম্ভকর্ণের ন্যায় ঘুমাচ্ছিল?যতক্ষণ না এর ঘটনায় জড়িত বড় মাথারা ধরা পড়ছে এবং যতক্ষণ না নদীর উপর এই নির্মম অত্যাচার বন্ধ হচ্ছে , ততক্ষণ বারবার ক্ষতবিক্ষত হতে থাকবে অজয় নদ, রাতের অন্ধকারে নদের বুক চিড়ে দৌড়ে বেড়াবে বালির ট্রাকগুলো। প্রশাসন যদি সত্যিই কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে, তবেই নদী, পরিবেশ এবং আইনের মানদণ্ড রক্ষা পাবে।
