ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনীতি, মহকুমা শাসক দপ্তরেই অশান্তি

সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : – নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ফের বিতর্কে দুর্গাপুর। বুধবার দুর্গাপুর মহকুমা শাসক দপ্তরে ফর্ম ৭ জমা দিতে এসে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা বৈধ ভোটারদের নাম ‘সাত নম্বর ফর্ম’-এ ভরে জমা দিতে আসে যা কার্যত ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।ধস্তা ধস্তির ভিডিও এই ঘটনায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বাধা দিলে শুরু হয় তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি। দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি । বিজেপির কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ। উত্তেজনার মধ্যেই এক পর্যায়ে বিজেপি কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, তাঁদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এক বিজেপি কর্মীর অভিযোগ, “আমাদের কর্মীরা ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিল। তখনই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের ওপর লাঠি নিয়ে হামলা চালায়, কর্মীদের মারধর করা হয়।”বিজেপির এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে তৃনমূল। দলের জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকারের পাল্টা দাবি,“বিজেপির কর্মীরা বৈধ ভোটারদের নাম নিয়ে ফর্ম জমা দিতে এসেছিল। আমরা কেবল সেগুলি দেখতে চেয়েছিলাম। কাউকে মারধর করা হয়নি।”স্বভাবতই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কীভাবে প্রকাশ্যে প্রশাসনিক দপ্তরে বসেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলে? কার নির্দেশে, কোন যাচাই ছাড়াই ফর্ম ৭ জমা নেওয়া হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের নজরদারি কোথায়?ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে যেখানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা হওয়ার কথা নিরপেক্ষ ও কঠোর, সেখানে একের পর এক অভিযোগে কমিশনের নির্লিপ্ততা গভীর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। প্রশাসনিক ভবনের মধ্যেই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *