বেনাচিতিতে ভোট বঞ্চনার অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীর হস্তক্ষেপে টেন্ডার ভোটের ব্যবস্থা

সংবাদদাতা দুর্গাপুর : বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের বেনাচিতি হাই স্কুলে ভোটগ্রহণকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ভোট বঞ্চনার অভিযোগে। গীতা রানী অধিকারী নামে এক ভোটার অভিযোগ করেন, লাইনে দাঁড়িয়ে বুথে ঢোকার পর তাঁকে জানানো হয় তাঁর ভোট ইতিমধ্যেই পড়ে গেছে। অথচ তাঁর আঙুলে কালি লাগানো ছিল না। তীব্র রোদে বারবার ঘুরেও তিনি ভোট দিতে পারেননি বলে জানান।


ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত দ্রুত বুথে পৌঁছে প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর হস্তক্ষেপের পর নির্বাচন আধিকারিকরা গীতা রানী অধিকারীর জন্য টেন্ডার ভোটের ব্যবস্থা করেন। কবি দত্ত বলেন, “ভোট দিতে পারেননি কেন, তার জবাব নির্বাচন কমিশনকেই দিতে হবে। আমি কথা বলার পর জানতে পারি টেন্ডার ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে। একজন ভোটার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বুথের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের জন্য না আছে জল, না ছায়া, যা চূড়ান্ত অব্যবস্থার ছবি তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত আশঙ্কার কথাও উত্থাপন করেন তৃণমূল শিবির। বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা যায়। ৭০ বছরের বিমল পতি বলেন, “রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কষ্ট হচ্ছে, কোনো ছায়া বা বসার ব্যবস্থা নেই।” অন্যদিকে সমীর দাসের অভিযোগ, “২ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, ভোট খুব ধীরে হচ্ছে।”


এদিকে বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই পাল্টা বলেন, “কবি বাবুকে একটাই কথা বলি, ২০১৭, ২০১৯, ২০২১ সালের কথা মনে আছে? তখন আপনারাই ভুয়ো ভোটার দিয়েছেন। আজ হারবেন বুঝে পরিকল্পনা করে এসব করা হচ্ছে। মানুষের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবার ভোটে বেরিয়ে আসবে, তাই এত লম্বা লাইন।”
বেনাচিতির বুথে অব্যবস্থা ও ভোট বঞ্চনার ঘটনায় নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *