সংবাদদাতা , দুর্গাপুর : অব্যাহত কর্মবিরতির ন’দিন পেরোতেই বুধবার আন্দোলনের ঝাঁজ আরও চড়ালো পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী পৌর স্বাস্থ্যকর্মীরা। বুধবার নিজেদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে তাঁরা দুর্গাপুর নগর নিগমের বিরুদ্ধে সরাসরি রাস্তায় নেমে পড়েন। মহকুমা শাসক দপ্তরের সামনে কার্যত শুয়ে পড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।
প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সাধারণ মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কম বেতনে কাজ করলেও তাঁদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও নগর নিগম কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ করেন তাঁরা । স্বাভাবিকভাবেই এদিনের এই আন্দোলন দুর্গাপুর নগর নিগমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কেন প্রশাসনের তরফে কোনও স্থায়ী সমাধান সামনে এল না? কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে শিল্পশহরের স্বাস্থ্য পরিষেবার ভবিষ্যৎ কী? এই আন্দোলনের দায় দুর্গাপুর নগর নিগমের নাকি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের?বিক্ষোভস্থলে আন্দোলনকারী নেত্রী কেকা পাল জানান, তাঁদের ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা করতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ বাবদ ৩৫০ টাকা ভাতা প্রদান করতে হবে এবং মেলার ডিউটি থেকে অব্যাহতির দাবিও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুরে এলেও এই দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি।” দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন জারি থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। যদিও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে। অস্থায়ী পৌর স্বাস্থ্যকর্মীদের এই আন্দোলন শুধু বেতন বৃদ্ধির দাবি নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে এক গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। নগর পরিষেবার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই কর্মীদের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে আগামী দিনে শহরের স্বাভাবিক জীবন আরও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা আন্তরিকতার সঙ্গে এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসে।
