সংবাদদাতা , দুর্গাপুর:—ভোট-কৌশলের অঙ্ক কষা দপ্তরেই হানা পড়েছে এই খবর ছড়াতেই রাজনীতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ইস্পাত নগরীর দুর্গাপুরেও । ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজপথে নামল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।দুর্গাপুর দু’নম্বর ব্লকের উদ্যোগে ভিড়িঙ্গি মোড় থেকে শুরু হয় তৃণমূল কর্মীদের মিছিল। গান্ধী মোড়ের দিকে মিছিল অগ্রসর হওয়ার পর ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। এর জেরে আসানসোল কলকাতা সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়কে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। কর্মব্যস্ত বিকেলের রাস্তায় হঠাৎই যেন ‘রাজনৈতিক বিরতি’ ঘোষণা হয়ে যায়।এদিনের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি জানান

পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুর দু’নম্বর ব্লক সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়-সহ ব্লকের অন্যান্য তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকেরা।বিক্ষোভ চলাকালীন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। ব্যস্ত জাতীয় সড়কের মাঝে এই প্রতীকী প্রতিবাদ স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে অবরোধ চলার পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তৃণমূল কর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আইপ্যাকের দপ্তরে ইডির অভিযান শুধু একটি তদন্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার তাৎপর্য অনেক বড় বলেই দেখা হচ্ছে।

আর সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে দুর্গাপুরেও এর প্রতিক্রিয়া দ্রুত রাজপথে এসে পড়ে।দপ্তরের দরজা খুলে তদন্ত ঢুকল, আর তার অভিঘাত এসে দাঁড়াল জাতীয় সড়কে। রাজনীতির এই শর্টকাট রুটটাই বোধহয় এখন সবচেয়ে চালু। এখন প্রশ্ন একটাই, ফাইলের ভার নামবে কবে মানুষের ভোগান্তির ঘাড় থেকে?
